প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি : একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ

তাসমিয়া নুহিয়া আহমেদ : এক গবেষণা অনুযায়ী, থাইল্যান্ড বাদে ২৪টি দেশের প্রায় সবগুলোতেই প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি করা অবৈধ। ২০০০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী স্থানীয় ও দেশ পর্যায়ে ফার্মেসিগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির হার দেখতে চেয়েছিলেন গবেষক। সেন্ট্রাল লাঙ্কাশায়ার ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি প্র্যাকটিস বিভাগের লেকচারার ড. আশা আতা জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ‘প্রেশক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি ও স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ এক বৈশ্বিক সমস্যা’। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বেশি বাস করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। আর এই দেশগুলোতে কমিউনিটি ফার্মেসিই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের একমাত্র ভরসা।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় ঔষধের দোকানদার বা দোকানের কর্মচারীরাই রোগীদের ঔষধ তো বটেই অনেক রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত উপদেশও দিয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময় তাদের ঔষধের দোকান চালানোর মতো সঠিক প্রশিক্ষণও থাকে না। অথচ যেকোনো রোগের ঔষধ দেয়া উচিত একমাত্র ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।

ড. আতা জানিয়েছেন, ‘অপেক্ষাকৃত উন্নত দেশগুলোতেও হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মীরা এই সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ কমিউনিটি ফার্মেসিগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের তেমন কোনো হস্তক্ষেপ নেই’। যাই হোক প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ কেনা উন্নয়নশীল দেশেই বেশি দেখা যায়। তবে এই সমস্যাটি এখন কিছু উন্নত দেশ যেমন : পর্তুগাল ও স্পেনেও বাড়ছে। বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যায়। বেশিরভাগ সময়ই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে অতিরিক্ত ডোজ ব্যবহার না করলে আজকাল রোগীর অসুখ ভালো হয় না।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বেশিরভাগ আইসিইউগুলোতে ৮০ শতাংশ রোগীর মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল প্রতিরোধশক্তির অকার্যকারিতাই দায়ী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. সায়েদুর রহমান ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, ‘২০১৮ সালে বিএসএমএমইউ’র আইসিইউতে অন্তত ৯০০ রোগী ভর্তি হয়েছিলো যার মধ্যে ৪০০ জনই মারা গেছেন’। তিনি আরো জানান, ‘যারা মারা গেছেন তাদের ৮০ শতাংশই ব্যাকটেরিয়াল বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন যা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ছিলো’।

সম্প্রতি, ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে মর্মে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এরই প্রেক্ষিতে নিবন্ধিত ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদেশ পাওয়ার দু’দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। প্রজ্ঞাপন জারি হলে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন নিবন্ধিত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে। এছাড়া প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে নাÑ মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট । হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের ফলে এখন আমরা আশা করতে পারি যে, বাংলাদেশেও অচিরেই নিবন্ধিত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি বন্ধ হবে।
লেখক : দৈনিক আওয়ার টাইমের নির্বাহী সম্পাদক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত