প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে কার মরায় কদ্দুর কাঁদলেন এমন ছোটলোকি হিসাব বাদ দিন

আমেনা বেগম ছোটন : নতুন (বা পুরনোই হয়তো) তামাশা দেখছি, অমুকে মরার সময় আপনি পোস্ট দিছিলেন? কম কাঁদছিলেন? নিউজফিডে কয়ডা পোস্ট দেখছিলেন? শুনেন, ধাক্কাধাক্কি না করে লাইনে দাঁড়ান। সবাই মরবে, মরছে, মরেছিলোÑবোমা, শিরñেদ, গৃহচ্ছেদ, কোপাকুপি-চাপাতি। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আস্তিক, নাস্তিক, সিভিলিয়ান, আর্মি, বাঙালি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি, আমরিকান সবাই নৃশংসভাবে মরেছেÑকেউ নিরাপদ নয়। আপনার পোস্ট দেয়ার, সমালোচনার, অন্য ধর্মের ওপর দায় চাপানোর পালা ফুরানোর কোনো সম্ভাবনা দেখি না।

আপনি যতোক্ষণ এই হিসাব নিয়ে প্যাঁচ কষেন, আরও ঘৃণার চাষ হয়। বিষ বাড়ে মনের মধ্যে, আপনার পক্ষ-বিপক্ষে আরও দুইশজন জড়িয়ে যায়। চীন তেলাপোকার মতো অপ্রতিরোধ্য গতিতে মানসিক সংঘাত ছড়ায়। নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন, এই ঘৃণা থামাতে আপনি কী করেছেন? সব ঘটনায় মরে নিতান্ত সাধারণ মানুষ।

আমার পক্ষে সম্ভব হলে সব ধর্মের জঙ্গি ধরে এক মাঠে সবাইকে অস্ত্র হাতে ধরিয়ে দিতাম। সব একে অপরকে নিকেশ করে আমাদের উদ্ধার করো। তোমাদের ঘৃণার পাহাড় নিয়ে তোমরা স্বর্গ খুঁজে নিও, আমরা বরং একটা স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রত্যাশা করি। আচ্ছা, ভিন্ন ভিন্ন চারজন মানুষের মৃত্যুতে আপনার শোক বা প্রতিক্রিয়া ভিন্ন রকম হয় কেন? এটা কী অপরাধ? অবশ্যই আপনার নিজের বাবার মৃত্যু আর ওই পাড়ার কেরামত আলীর মৃত্যুতে আপনার প্রতিক্রিয়া এক হবে না। একজন মুসলিম বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মানুষের ফেসবুক নিউজফিডে নিউজিল্যান্ডে বা গাজা হামলার ঘটনায় বেশি রিয়েকশন দেখবেন। শ্রীলঙ্কান নিউজফিডে নিশ্চয়ই ফ্লাডিং হচ্ছে।

ট্রলার বা লঞ্চডুবিতে ৫০ জনের মৃত্যুতে আপনি যতোখানি সময় শোক প্রকাশে ব্যবহার করেছেন, নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় তার চেয়ে বেশি করেছেন। কারণ এলিট ফেসবুক ইউজাররা এই নেপাল ভ্রমণকারী দেশি ট্রাভেলারদের সঙ্গে একধরনের আত্মিক যোগাযোগ অনুভব করেছেন, শোকটি ছিলো আন্তরিক। জার্মান থেকে মস্কোগামী প্লেনের একই সংখ্যক যাত্রী নিহত হলে আপনি ১ মিনিটের কম সময়ে ব্যাপারটা ভুলে যেতেন। তাদের সঙ্গে আপনার কোনো রকম যোগাযোগ নেই। ১৫০ জন ইহুদী নিহত শুনলে হয়তো খুশি হবেন অনেকেই।

যদি এর মধ্যে একজন হন স্পিলবার্গ অথবা গ্যাল গ্যাডোট? খুশি কমে যাবে। সুতরাং কে কার মরায়, কদ্দুর কাঁদলেন এমন ছোটলোকি হিসাব বাদ দিন। সব মানুষকে যতোদিন মানুষ ভাবতে না পারবেন, চোখের পানির হিসাবে তারতম্য থেকেই যাবে। যা নিয়ে অন্যকে দোষারোপ করেন, আপনি নিজেও সে দোষমুক্ত নন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত