প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নানা আয়োজনে খুলনা দিবস পালিত

শরীফা খাতুন শিউলী : খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ১৩৭ বছর পূর্তিতে নানা আয়োজনে “খুলনা দিবস-২০১৯” পালিত হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির আয়োজনে সংগঠনের মজিদ সরণির কার্যালয়ের সামনে বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে খুলনা দিবসের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে খুলনার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত বর্ণাঢ্য র‌্যালী মহানগরীর মজিদ সরণির সংগঠনের কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আবার উন্নয়ন ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত খুলনা বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রফিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, সিপিবি মহানগর সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস, শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর ইমাম, অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব, শিল্পপতি ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার মোল্লা, শরীফ ফজলুর রহমান, উন্নয়ন নেতা লোকমান হাকিম, এ্যাডভোকেট এস এম মঞ্জুর-উল-আলম, নাগরিক নেতা এ্যাডভোকেট কুদতর-ই-খুদা

দুপুরে কেডিএ কমিউিনিটি সেন্টারে ঐতিহ্যবাহী মেজবান এবং নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এসব অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, ১৮৪২ সালে খানজাহান আলী (রা:) স্মৃতি বিজড়িত ভৈরব-রূপসা বিধৌত পূর্ণভূমি নয়াবাদ থানা ও কিসমত খুলনাকে কেন্দ্র করে নতুন জেলার সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। খুলনা মহাকুমা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ব্রিটিশদের প্রশাসনিক এলাকা বৃদ্ধি এবং ভৌগলিক অবস্থানের কারণে খুলনার গুরুত্ব অনেক বেশি হওয়ায় মাত্র ৪০ বছরের ব্যবধানে ৪ হাজার ৬ শত ৩০ বর্গ মাইল এলাকা, ৪৩ হাজার ৫ শত জনসংখ্যা অধ্যুসিত খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাকে নিয়ে ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং খুলনার প্রথম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মি. ডাব্লিউ এম ক্লে দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে খুলনা জেলার কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা আমাদের এই খুলনা উন্নয়নের দিক থেকে অনেক অনেক গুন পিছিয়ে। তারপরও এ অঞ্চলের উপর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি থাকার কারণে এ অঞ্চলে কিছুটা উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ পরবর্তিতে খুলনায় উন্নয়নের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় সম্প্রতি খুলনায় গ্যাস সরবরাহ করার জন্য যে পাইপ লাইন বসানো হয়েছিল, সে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে এবং সেগুলো বিক্রি করে দেবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার জোর দাবি জানানো হয়। এছাড়াও খুলনায় বিমান বন্দর দ্রুত বাস্তবায়ন, খুলনা মেডিকেল কলেজকে ১০০০ বেডে উন্নীতকরণসহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনা, শহর রক্ষা বাঁধসহ রূপসা ও ভৈরব নদীর তীঁর ঘেষে রিভারভিউ রোড ও পার্ক নির্মাণ, মেরিন একাডেমি, ক্যাডেট কলেজ, বয়রা মেইন রোড সম্প্রসারণসহ খুলনা টেক্সটালইল পল্লী দ্রুত বাস্তবায়ন, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও ভোমরা স্থল বন্দরের আধুনিকায়ন, ভৈরব নদীতে আধুনিক ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং ভৈরব নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণ, আধুনিক পাবলিক হল নির্মাণ, খুলনায় শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের প্রসারসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত