প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালিক-শ্রমিক সর্ম্পক যেমন হবে

সাইদুর রহমান: জীবিকা অর্জন করা নবী রাসূলগণের সুন্নত। হজরত আদম (আ.) চাষাবাদ করেছেন। হজরত দাউদ (আ.) কর্মকারের কাজ করেছেন। হজরত নূহ (আ.) ছুতারের কাজ করেছেন। হজরত ইদ্রিছ (আ.) দর্জির কাজ করছেন। হজরত মুছা (আ.) বকরি চরিয়ে জীবিকা অর্জন করেছেন। হজরত রাসূল (সা.)-এর কাছে একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা চাইতে এলে, তিনি ভিক্ষুকের বাটি এবং কম্বল বাজারে বিক্রি করে, কুঠার কিনে বন থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

শ্রমিকদের সঙ্গে কখনও দুর্ব্যবহার করা যাবে না। অপমান অপদস্থ করা যাবে না। হজরত উমর (রা.) মরুভূমিতে পথচলার সময় ভৃত্যকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজের উটের লাগাম ধরে হেঁটেছেন। মালিক-শ্রমিক পার্থক্য শুধু এতটুকুই, যার পুঁজি আছে, তিনি মালিক আর যার পুঁজি নেই, তিনি শ্রমিক।

কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের কাউকে কারও ওপর রিজিকের ব্যাপারে প্রাধান্য দিয়ে রেখেছেন।’ (সূরা নাহল : ৭১)। ‘আপনি দেখেন, কীভাবে আমি (পার্থিব সম্পদের বেলায়) তাদের একজনকে আরেকজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করলাম।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ২১)।

শ্রমিকদেরও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে শ্রমিক বিশ্বস্ত, তিনি কলকারখানার আদর্শ শ্রমিক। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমার মজুর হিসেবে সেই উত্তম যে শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত।’ (সূরা কাসাস : ২৬)।

শ্রমিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী কখনও জান্নাতে যাবে না। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, দাস-দাসী বা চাকর-চাকরানিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (তিরিমিজি : ১৯৪৬)

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আমার বিতর্ক হবে। ১. ওই ব্যক্তি, যে আমার নামে কোনো চুক্তি করে তা ভঙ্গ করেছে। ২. সেই ব্যক্তি, যে কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। ৩. সেই ব্যক্তি যে মজুরের কাজ পুরোপুরি আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু তার মজুরি দেয়নি। (বোখারি : ২২৭০)।

শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, তোমরা মজুরের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও। (ইবনে মাজাহ : ২৪৪৩)।

রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই। সুতরাং আল্লাহ যে ভাইকে যে ভাইদের অধীন করে দিয়েছেন, সে তার ভাইকে যেন তাই খাওয়ায়, যা সে নিজে খায়, তাকে তাই পরিধান করায় যা সে নিজে পরিধান করে। (বোখারি : ৮/৬০৫০)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত