প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রীলঙ্কায় হামলা পরবর্তী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক সমীকরণ

বাকী বিল্লাহ

 

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে আইএস শ্রীলঙ্কার গির্জায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই খবর শোনার পর পৃথিবীর মুসলমানদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মনে মনে শ্রীলঙ্কায় হামলার বৈধতাকে স্বীকার করে নেবে। এখন পর্যন্ত গোটা পৃথিবীতে মসজিদে বোমা ফাটিয়ে মানুষ মারার ঘটনার অধিকাংশই ঘটেছে আল কায়েদা এবং আইএসের হাতে সেসব হামলার প্রতিশোধ কীভাবে নেয়া হবে, তা নিয়ে বিশ্বাসী মুসলমানদের সম্ভবত কোনো ধারণা নেই। পুঁজি, অস্ত্র ব্যবসা, ধর্মীয় এবং জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা, তার সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এসব কিছু মিলিয়েই একটা প্যাকেজ। কখন কোনটির সঙ্গে কোনটি মিলে হামলার বারুদ প্রস্তুত হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো এর নির্দিষ্ট কোনো একটা বা দুটোর ঘাড়ে দায় চাপিয়ে বাকিগুলোকে আড়াল করার সুযোগ নেই। আল কায়েদা এবং আইএস তৈরির ক্ষেত্রে সিআইএর বড় ভূমিকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে, এটা যেমন সত্য, তেমনি বিনিয়োগের এই পটেনশিয়াল গ্রাউন্ড দাঁড়িয়ে আছে গত কয়েক দশকের বিশ্বাসী মুসলমানদের গড়পড়তা মানসিক অবস্থার উপর ভিত্তি করেই।

আইএস এবং আল কায়েদার জন্য যে, হাজার হাজার যোদ্ধা রিক্রুট হয়েছে, তার জন্য সিএইএ বা মোসাদকে দরকার পড়েনি। এসব তরুণদের জেহাদি চিন্তার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে নিজেদের সামাজিক এবং পারিবারিক জীবনের গ-িতেই। মসজিদে যেসব বয়ান তারা শুনেছে, মুসলমানদের নিজস্ব সামাজিক ও পারিবারিক আবহের মধ্যে যেভাবে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ চর্চিত হয় সেগুলোই জেহাদি তৈরির মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। শ্রীলঙ্কায় চার্চে হামলা ইসলামিক মিলিট্যান্টরা করেছে শুনে প্রথমে ভীষণ অবাক হয়েছি। গত বছর চারেক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ফলো করি, ওখানকার কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্টের সঙ্গে মোটামুটি যোগাযোগ আছে। এই সময়কালে উগ্র বুদ্ধিস্ট সংগঠনগুলো খুব সক্রিয় এবং বিকাশমান অবস্থায় আছে। তারা মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী মানসিকতা ধারণ করে। এর বিপরীতে অন্যতম দুই মাইনরিটি মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের বেশ ভালো একটা ঐক্য আছে। এমতাবস্থায় মুসলিম জঙ্গিরা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চার্চকে বেছে নেবে এটা অকল্পনীয় মনে হয়েছে। তবে এই গোষ্ঠী নিয়ে কোনোকিছু প্রেডিক্ট করা সম্ভব নয় আসলে।

গত বছরখানেক ঢাকা শহরের মসজিদগুলোতে জুমার খোতবা এবং ওয়াজ মাহফিলের বক্তব্য শোনার প্রেক্ষিতে কোনো কিছুই অকল্পনীয় মনে হয় না। যে সম্প্রদায়ের আলেমরা প্রকাশ্যে এ রকম ভয়াবহ ঘৃণা অন্যদের বিরুদ্ধে ছড়াতে পারে এবং সবাই বাদ-প্রতিবাদ ছাড়া সেগুলো শুনে এবং অনুমোদন দেয় এদেরই একদল যখন ওইসব আলেমের চেয়েও বেশি জেহাদি এবং উগ্রতার পথ বেছে নেয়, তাদের মাথায় কোনো র‌্যাশনাল বোধবুদ্ধি কাজ করার কথা নয়। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত