প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আহা শৈশব, ঝলমলানি শৈশব : কোথায় হারিয়ে গেলো?

সৈয়দ সাঈফ

 

ছোটবেলায় শুক্রবারে সিনেমা দেখতাম। পুরো বাড়িতে একটা সাদাকালো টিভি, ঘরভর্তি মানুষ। সাড়ে তিনটায় সিনেমা শুরু, তিনটা থেকেই জায়গা দখলের চেষ্টা। সেই সুবাদে সিনেমা শুরু হবার আগে আবহাওয়ার খবর দেখা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক পাঠ শোনা। তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ‘সিনেমা শুরু’। মনে মনে প্রার্থনা, (বিজ্ঞাপন) যেন না আসে। কিন্তু বিজ্ঞাপন ঠিকই আসে। বড়রা বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে অনেক কাজ সেরে নিতো। আমরা ছোটরা, আঙুল দিয়ে বিজ্ঞাপন গুণতাম। ত্রিশটা বিজ্ঞাপন দেখানোর পরই সিনেমা শুরু হবে ততোদিনে আমাদের মুখস্থ ছিলো। বিকালটা ছিলো ছুটোছুটির। ক্রিকেট খেলতাম পাড়ার মাঠে বা বাড়ির ছাদে। খুব ছোটরা খেলার বায়না ধরলে তাদের ‘দুধভাত’ হিসেবে খেলায় নিতাম, তবুও ছোট বলে তাকে বঞ্চিত করতাম না।

খেলার মাঝে যদি কারও সঙ্গে ঝগড়া হতো তাহলে কাইন আঙুলে আড়ি নিতাম, দু’দিন কথা বলতাম না। তারপর আবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুই আঙুলে ‘ভাব’ নিতাম, এখন থেকে আবার কথা বলা যাবে। তখন আবার রক্তের বন্ধুর প্রচলন ছিলো। কারও হাত কাটলে ছুটে যেতাম রক্তের দোস্ত পাতাতে। আমার কাটা আঙুলের সঙ্গে ভালো আঙুল মিলিয়ে হতাম ‘রক্তের দোস্ত, কোনোদিন এই বন্ধুত্ব যাবে না’। কই গেলো আমার সেইবন্ধুগুলোা? সন্ধ্যা হলেই শুরু হতো যন্ত্রণা। বই-খাতা খুলে পড়তে বসো। সবার আগে পড়তাম সমাজ। বেশি বিরক্ত লাগতো অঙ্ক। কী যে নলচৌবাচ্চা, প্রথম পাইপ, দ্বিতীয় পাইপ। মাথাটা এলোমেলো করে দিতো। তখন নিয়ম করে কারেন্ট যেতো, এতো চার্জার লাইট ছিলো না। মোম, হারিকেনই ভরসা। অঙ্ক করতে বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে দোয়া করতাম, ‘আল্লাহ, কারেন্ট যা’। হিসেবি মায়েরা কেরোসিন, মোম খুব জ্বালাতো না। কারেন্ট গেলেই পড়া থেকে মুক্তি। যেই কারেন্ট যেতো অমনি সবাই একসঙ্গে চিৎকার করে বেরিয়ে আসতাম ঘর থেকে। শুরু হয় নতুন খেলা, ‘চোখ পলান্তি’ (অন্ধকার থেকে লুকিয়ে থাকা একেকজনকে খুঁজে বের করা) তবে আলিফ লায়লা দেখার সময় কারেন্ট গেলে মন ভীষণ খারাপ হতো। ঈদ আসলে আমরা ঈদ কার্ড কিনতাম। ‘মিষ্টি মিষ্টি হাসিতে, দাওয়াত দিলাম আসিতে’Ñএমন ছন্দ লিখে বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত দিতাম। সেসময় সবচেয়ে দামি জরিওয়ালা ঈদ কার্ড যেটা ছিলো সেটা খুললে ভেতর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে মিউজিক বাজতো। ঈদের জামা ঈদের দিন ছাড়া কাউকে দেখাতাম না, পুরানো হয়ে যাবে ভেবে। জামা লুকিয়ে রাখা ছিলো সেসময় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। কী সব সোনালি দিন ছিলো আমার। আজকের সকালটা এসব ভেবেই কেটে গেলো। সেই সময়গুলো… কোথায় হারিয়ে গেলো? প্রযুক্তি আমাদের কোথায় এনে দাঁড় করালো। আহা…শৈশব, ঝলমলানি শৈশব! ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত