প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ মারা গেছেন

মহসীন কবির: বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মাহফুজ উল্লাহ ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। মাহফুজ উল্লাহর বড় মেয়ে ডা. মেঘলা আমাদের সময়ডটকমকে এখবর নিশ্চিত করেছেন।

মাহফুজ উল্লাহ স্ত্রী, তিন সন্তান ও তাদের জীবনসঙ্গীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ডা. মেঘলা বলেন, আগামীকাল বা পরশু বাবার মরদেহ দেশে আনা হবে। মরহুম মাহফুজ উল্লাহর জন্য দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

গত ২ এপ্রিল সকালে ধানমণ্ডির গ্রিন রোডের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাহফুজ উল্লাহকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখা‌নে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। প‌রে শারী‌রিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১০ এপ্রিল রাত ১১টা ৫২ মি‌নি‌টে মাহফুজ উল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককের হাসপাতালে নেওয়া হ‌য়।

মাহফুজ উল্লাহ ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে তাঁকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি। রেডিও ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন।

মাহফুজ উল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ এবং বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা মাহফুজ উল্লাহর বইয়ের সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো President Zia of Bangladesh : A political Biography, ULFA & THE INSURGENCY IN ASSAM, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন : গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত