প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের অর্থ আত্মসাৎ করত অধ্যক্ষ সিরাজ

নিউজ ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা লিল্লাহ বোর্ডিয়ের অর্থও আত্মসাৎ করত। বোর্ডিংয়ে অনুদান হিসেবে আসা ছাগল বাজারে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিত। ভালো চাল বাসায় নিয়ে বাজার থেকে পঁচা চাল কিনে বোর্ডিংয়ে দিত।

সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে সে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিল। এ বিষয়ে গভর্নিং বডির কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ বেশ পুরনো। রাফি হত্যার ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি সরেজমিন গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে। যুগান্তর

এদিকে রাফি হত্যার তদন্ত গুছিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী শাহাদাত হোসেন শামীমসহ ৮ জন ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অনেক আসামি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্ত শেষ করে শিগগিরই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। সিরাজ অভিজ্ঞতার সনদ জাল করে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পায়। অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেতে কমপক্ষে দশ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অথচ তার সেই অভিজ্ঞতা ছিল না। সে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রংমালা মাদ্রাসা ও ফেনী সদর উপজেলার দৌলতপুরের ছালামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়ে সোনাগাজীতে নিয়োগ পায়।

তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ শুধু নিজেই অভিজ্ঞতার জাল সনদ নেয়নি, অর্থের বিনিময়ে অন্যদেরও সে জাল সনদ দিত। ২০০৬ সালে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে হুরের জান্নাত নামে একজনকে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সনদ দেয়। অথচ হুরের জান্নাত নামের ওই নারী মাদ্রাসায় কখনই শিক্ষকতা করেননি। খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগেও তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তিনি ২০১০ সালের আগে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ৯ জনকে নিয়োগ দেন। ২০০৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটের সময় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার নাম করে ১১ জন শিক্ষক কর্মচারীর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ২০০৯ সালে কম্পিউটার শিক্ষক বাহাউদ্দিন ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নেয়। অন্যত্র চাকরি নিলেও অধ্যক্ষকে ম্যানেজ করে সে মাদ্রাসা থেকে বেতন উত্তোলন করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হলেও অতিরিক্ত টাকা অধ্যক্ষ সিরাজ আত্মসাৎ করত। ২০০৩ সালে ফিকাহ প্রথমপত্রের বিষয়ে উত্তরপত্র বাইরে সরবরাহ করে মূল খাতার সঙ্গে সংযোজন করে ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

মাদ্রাসার আবাসিক হলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিজের মতো করে রাখত সে। মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ এবং রমজানে বিশেষ তহবিল সংগ্রহের জন্য শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করত সিরাজ। সে শিক্ষকদের অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিত। যদি কেউ তা পূরণ করতে না পারত তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হতো। এসব টাকা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে না দিয়ে অধ্যক্ষ নিজে আত্মসাৎ করত।

পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এসএম রুহুল আমিন বলেন, সরেজমিন গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের অনেক অপকর্মের তথ্য আমরা পেয়েছি। শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে সে কারাগারে আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত