প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিএমপির নির্দেশনা মানছে না ঢাকার অধিকাংশ বাড়িওয়ালা

আসিফ কাজল: ভাড়াটিয়াদের তথ্য থানায় জমা দেওয়ার ব্যাপারে ডিএমপির নির্দেশনা মানছে না রাজধানীর অধিকাংশ বাড়িওয়ালা। পুলিশ বাড়ি বাড়ি তথ্য ফর্ম পৌছে দিলেও তা পূরণ করে থানায় জমা দিচ্ছেন না বাড়ির মালিকরা।
এই ব্যাপারে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ ভাড়াটিয়াদের উদাসীনতা ও অসহযোগীতায় এর কারণ। ভাড়াটিয়ারা বলছেন, মালিকদের অসচেতনা এর জন্য দায়ী।

একজন ভাড়াটিয়ার কাছে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র, পূর্বের বাড়িওয়ালার নাম ও বাড়ি ছাড়ার কারণসহ ১৭ টি তথ্য চেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি)। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এই তথ্য ফর্ম থানায় জমা না দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

গত ২২ শে এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগ থানার সনাতনগড় বৌ-বাজার এলাকার ৪৬/৭ নম্বর বাড়ি থেকে মৃত্যুর তিনদিন পর পঁচা গলা অবস্থায় শাহজাহান নামের পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর মৃত ব্যক্তির লাশ সনাক্তের জন্য কোন ধরনের পরিচয়পত্র না পেয়ে বেকায়দায় পড়ে পুলিশ। অপর ভাড়াটিয়ারা জানায়, দীর্ঘ তিন বছর সে তার বাড়িতে ভাড়া থাকলেও শাহজাহানের ফর্ম পূরণ করে জমা দেয়নি। পরে পুলিশ মৃতদেহকে থানায় নিয়ে যায়।

হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির অভিজাত এলাকায় একাধিক বাড়িতে সরেজমীনে দেখা যায় এমন অবস্থা।

হাজারীবাগ বৌ-বাজার এলাকার সৈয়দ জসীম উদ্দিনের বহুতল ৪ টি বাড়িতে ফ্যামিলি ও ব্যাচেলর মিলিয়ে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা ৫ শতাধিক। যাদের মধ্যে কেউ সরকারী চাকুরী কেউ ব্যাবসা কেউ আবার গার্মেন্টস শ্রমিক। বাড়ির পরিচারিকা জহুরা বেগম জানায়, ৫০০ ব্যক্তির মধ্যে ৫০ জনের তথ্য বাড়ির মালিকের কাছে নাই। বাড়ির মালিক জসীম উদ্দিনের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টার পরও তা সম্ভব হয়নি।

শিকদার রিয়েলস্টেট ৭ নম্বর রোডের ১০৯ নম্বর ৭ তলা বাড়িতে ১২ টি ফ্লাট ভর্তি ভাড়াটিয়া থাকলেও বাড়িটির পরিচালক মো: সবুজ হোসেন জানান, ১২ জনের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি পুলিশের জন্য নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে দিয়েছেন যা এখনো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

মোহাম্মদপুর থানার শংকর জাফরাবাদ এলাকায় তাকরিম তনু বলেন, আমি ৩ মাস একটি বাড়িতে ভাড়া থাকলেও গতকাল নিজ উদ্যোগে বাসা মালিককে ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছি।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরাম আলী মিয়া বলেন, আমাদের ডিউটি অফিসাররা বাড়ী বাড়ী গিয়ে বাসার মালিকদের সাথে কথা বলেছেন। বাড়ির মালিকদের অজ্ঞতা ও অসচেতনায় এর জন্য দায়ী। তবে কোন বাড়ীর মালিক বারবার জানানোর পরেও ডিএমপির নির্দেশনা না মানলে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, এমন অভিযোগ সত্যিই আমার কাছে ছিলনা। তবে এমন অবস্থা হয়ে থাকলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত