প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাকার সঙ্কট মেটাতে বেশির ভাগ ব্যাংক স্বল্প মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করছে

রমজান আলী : বিনিয়োগ করা হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে আর আমানত সংগ্রহ করছে স্বল্প মেয়াদে। এ বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে ব্যাংকিং খাতে তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করার কথা। কিন্তু ব্যাংকগুলো করছে উল্টো। স্বল্প মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করলে এক সময় আমানতকারীদের আমানত নির্ধারিত মেয়াদ শেষে ফেরত দেয়া ব্যাংকগুলোর জন্য কষ্টকর হবে। বিষয়টি এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। যেসব ব্যাংক এমন অবস্থান নিয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে যেসব আমানত নেয়া হয়েছিল ওই সব আমানতের মেয়াদ পূর্তিতে এককালীন মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে। নতুন আমানত কাঙ্কিত হারে আসছে না। বিপরীতে বাড়ছে ঋণপ্রবাহ। কিন্তু ব্যাংকের নগদ টাকা ও বিনিয়োগ চাহিদা পূরণ করার প্রধান মাধ্যম আমানত প্রবাহ কমে যাচ্ছে। ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফলে আমানত সংগ্রহে ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এর ফলে মুনাফার হার বাড়িয়েও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে নগদ টাকার সঙ্কটে থাকা ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপকদের উদ্বেগ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর কোনো কোনোটিরই আমানতের মুনাফা ১০ শতাংশের ওপরে নিয়ে গেছে। তবুও মিলছে না আমানত। করপোরেট গ্রাহকদের আস্থায় আনার জন্য দ্বারে দ্বারে তারা এখন ঘুরছেন। কাঙ্খিত সারা মিলছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যেখানে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রচলিত ধারা অনুযায়ী আমানতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার কথা থাকলেও এটি হচ্ছে উল্টো, যা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ ঋণ দেয়া হচ্ছে তা উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না। ঋণের অর্থ হয় হন্ডির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে, না হয় গ্রাহক ঋণ নিয়ে ঋণ পরিশোধ করছেন।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, আমানতের এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে সরকারি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার এক বছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ২ এপ্রিলে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৬৭ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।

চলতি ২ এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ৮৪ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। ঋণ গ্রহণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ব্যাংকের আমানতের সুদহার কম হওয়ায় ব্যাংকে আমানত প্রবাহ কমে গেছে। এদিকে বড় বড় ঋণগ্রহীতারা কাক্সিক্ষত হারে ঋণ পরিশোধ করছেন না। এতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমে গেছে। এর ওপর বড় বড় ঋণখেলাপিদের ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় যারা এতদিন ঋণ পরিশোধ করতেন তারা আর আগের মতো ঋণ পরিশোধ করছেন না। ফলে নগদ আদায় ব্যাপক হারে কমে গেছে। এমনি পরিস্থিতিতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি হারে ঋণ নিলে ব্যাংকগুলোর সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে বলে তারা মনে করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত