প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সমীরণ রায়: শ্রীলংকায় ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা অধিকতর তৎপর রয়েছে। এর পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমি জানিনা আত্মঘাতি বোমা হামলা করে কি হয়। মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে গুলি করে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ে। কতটা বিভৎস্য মানসিকতা। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে। যার কারণে অনেকটাই এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটা এখন আন্তর্জাতিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্রুনাই সফর সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সবসময়ই উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। শ্রীলংকা ১০ বছর ভালো ছিলো। শ্রীলংকায় আত্মঘাতি বোমা হামলায় আমার পরিবারের একজন নিহত হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে ক্র্যাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা কতটা বিভৎস্য ছিলো। বাংলাদেশেও লেগে আছে। ২০০১ সালে কথা কি মনে আছে, নির্বাচনের পর সারা দেশে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিলো। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি যে অগ্নি সন্ত্রাস চালিয়েছিলো, তা সবার জানা আছে। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা, ৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী হামলা করা হয়েছে। বাংলাদেশে অনবরত হচ্ছে। আমরা সেই সন্ত্রাসের শিকার। ২০১৩ সালের শেষে থেকে শুরু করে ১৪ সালে নির্বাচন বানচালের জন্য সারা দেশে বিএনপি অগ্নি সন্ত্রাস করেছে। এর পর ২০১৫ সালে করেছে। সবশেষে নোয়াখালীর সোনাগাজীতে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। দেশকে ভালোবাসি। ইসলাম ধর্ম সবচেয়ে বেশি সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়। ধর্মের ভালো দিকটা কেউ দেখেনা। কিছু মানুষ কিছু ভুল স্বপ্ন নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের ধর্মে কিন্তু এসব নেই। জঙ্গবাদে মুসলমানরাই শুধু নয়, এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই রয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো ধর্ম নেই। আমাদের দেশে সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে ধর্ম পালন করতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পেরেছি। কিন্তু আত্মঘাতি বোমা হামলার মতো বিভৎস্যতা কেন? যেখানে আল্লাহ বিচার করবেন। সেই বিচারের ভরসা না করে নিজেই বিচার করে। এ অধিকার কোরআন শরিফে দেয়নি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিবিসিতে দেখলাম বাংলাদেশে নাকি খ্রিস্টান ধর্মালম্বীরা বেশি খারাপ আছেন। কিন্তু এমন কোনো খবর আমার কাছে নেই। এদেশে সব ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে রয়েছে। তাদের সম্মান দিচ্ছি। খ্রিস্টান ধর্মের যারা রয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করলেই তো হয়, আপনারা কেমন আছেন। এদেশের সব ধর্মেরই লোক আওয়ামী লীগের আমলেই ভালো থাকে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিএনপি-জামায়াতের আমলেই হয়েছে। তারা নির্যাতনের শিকারও তাদের আমলেই হয়েছে। আমরা সবাই মিলে ১লা বৈশাখ উদ্্যাপন করি। কিন্তু ১লা বৈশাখ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। এটা নাকি হিন্দুয়ানী। অথছ ১লা বৈশাখের প্রবর্তক সম্রাট আকবর।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই শ্রীলংকায় হামলায় নিহতদের কথা এবং জায়ানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, ব্রæনাই সফরে থাকা অবস্থায় তিনি প্রথমে হামলার খবর পান। পরে পান জায়ানের মৃত্যুর খবর। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীকে শোকবার্তা পাঠাই। এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত