প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাংক থেকে কোটি টাকা নিয়ে উধাও, ৩ বছর পলাতক আসামি আটক

সুজন কৈরী: জালিয়াতীর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে থাকা প্রধান আসামি এহছানুল হক ওরফে শিমুকে ৩ বছর পর আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়, রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ শম্মীর অভিযোগ করেন, এহছানুল হক শিমু পল্লবীর রূপনগরে শম্মীর ৩ কাঠা জমি বিক্রির সময় সাহায্য করে এবং জমির বিক্রির এক কোটি টাকা এহসানুলের মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ এর রোকেয়া স্মরণীর শাখায় দুটি হিসাব নম্বরে জমা দেন।

একটি ৬ বছর মেয়াদী ডবল বেনিফিটের মেয়াদী হিসাব নম্বরে ৫০ লাখ ও অপরটি ৩ মাস অন্তর মুনাফা প্রদেয় ৫ বছর মেয়াদী হিসাব নম্বরে বাকী ৫০ লাখ টাকা জমা রাখা হয়। এহছানুল জানায় যে, ব্যাংক ৩ মাস মেয়াদী হিসাবের সুদের হার কমিয়ে সাড়ে ১৩ টাকার জায়গায় সাড়ে ১১ টাকা করতে চায়। ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় তার স্ত্রীর বড় ভাই মো. আবু সাঈদ আছে। তার সঙ্গে কথা হয়েছে যে, ওই ব্যাংক ৩ মাস মেয়াদী আমানতের জন্য সাড়ে ১৪ টাকা হারে সুদ দিবে। এমন ভুল বুঝিয়ে এহছানুল দুটি মেয়াদী হিসাবের ১ কোটি টাকা স্থানান্তর করে কথিত মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় হিসাব খোলার জন্য শম্মীকে রাজি করায়। সরল বিশ্বাসে ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ রোকেয়া স্মরনী শাখায় ৬ বৎসর মেয়াদী এবং ৩ মাস মেয়াদী হিসাবের দুটির বিপরীতে সই স্বাক্ষর করে দেন এবং ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ কর্পোরেট শাখায় অনুরূপ দুইটি হিসাব খোলার জন্য এহছানুলকে দেন। শম্মীর স্বাক্ষরিত সঞ্চয়ী একাউন্টের একটা ব্যাংক চেক গ্রহণ করে এহছানুল এবং বলে হিসাব ট্রান্সফারের জন্য এবং কর্পোরেট শাখার হিসাব খোলতে সামান্য কিছু টাকা প্রয়োজন হবে। তা ওই চেকে লিখে ব্যাংক থেকে উত্তলোন করবে। শম্মী সরল বিশ্বাসে ব্যাংক চেক দিলে এহছানুল, ব্যাংক কর্মচারী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কয়েকজনের যোগসাজসে ৬ বৎসর মেয়াদী হিসাবের বিপরীতে শম্মীর সই স্বাক্ষর ও লেখা জাল করে গ্যারান্টার দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা এহছানুলের প্রতিষ্ঠান গড়াই অটো মোবাইলসের নামে এসওডি ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাত করেছে। এছাড়া শম্মীর দেয়া চেকের মাধ্যমে এহছানুল তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামীয় চলতি হিসাবে ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। ওই টাকা উত্তোলণের সময় ব্যাংক থেকে শম্মীকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। অষ্ট্রেলীয় এ্যাম্বাসি শম্মীর ছেলের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার বিষয় নিয়ে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট দেখতে চাইলে এহছানুল দুইটি ব্যাংক ইন্সটলমেন্ট ও রোকেয়া স্মরণী শাখার ম্যানেজারের দেয়া সলভেন্সী সার্টিফিকেট দাখিল করেন। অষ্ট্রেলীয় এ্যাম্বাসি ওই মেয়াদী হিসাব দুটির খোঁজ নিয়ে জানায় যে, আসামী এহছানুলের দেয়া ইন্সটলমেন্ট ও সলভেন্সী সার্টিফিকেট জাল এবং এ্যাম্বাসী শম্মীর ছেলেকে ৩ বছরের জন্য অষ্ট্রেলিয়া যাওয়া স্থগিত করে দেয়। পরে শম্মী ব্যাংকে খোজ নিয়ে জানতে পারেন, এহছানুল তার ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট ১ কোটি ১লাখ ৫০হাজার টাকা আত্মসাত করেছে। এবং ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ মতিঝিল কর্পোরেট শাখার কোনো অস্তিত্ব নেই।

প্রতারণা ও জাল জালিয়াতীর মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করায় শম্মী বাদী হয়ে এহছানুলের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানার মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে। পরে সিআইডি দীর্ঘদিন তদন্ত করে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। কিন্তু ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত প্রধান আসামী এহছানুল গ্রেফতার না হওয়ায় অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদী না-রাজীর আবেদন করেন। আদালত ব্যাপকভাবে তদন্ত করলে আসামীকে আটক করা সম্ভব হবে উল্লেখ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এরপর পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত¡াবধান ও দিক-নির্দেশনায় বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের তালতলা এলাকা থেকে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে ২ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি এহছানুল হক ওরফে শিমু দীর্ঘ ৩ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরো মামলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে জাল কাগজপত্র তৈরি ও তা ব্যবহারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতকারী অন্যান্য সহযোগী আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত