প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাহিদুর রহমানের শপথে বিএনপির চেইন অফ কমান্ডে বড় ধাক্কা, অন্য ৪ জনও লাইনে

শাহানুজ্জামান টিটু : নিজের ঘর সামলাতে পারলেন না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান বৃহস্পতিবার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাহিদুর রহমানের সংসদে যোগ দেয়া বিএনপির রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব পড়বে তা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো নেতা কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার এই শপথ বিএনপি’ মহাসচিব মির্জা ফখরুল বিরোধীরা যে খুশি হবেন তাতে সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে তার নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে আগামী দিনে।

নির্বাািচতদের শপথ নিয়ে অনেক আগে থেকেই কানাঘুষা ছিলো। এনিয়ে গত কয়েক দিন দফায় দফায় বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। কিন্তু তারপরেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওই বৈঠকে জাহিদুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদের এই শপথ অন্ধকারে থাকা বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলেছে। তার পথ অনুসরণে অন্য নির্বাচিতরাও শপথ নেয়ার পাইপ লাইনে দাঁড়িয়ে। অপেক্ষা করছেন দলের সিদ্ধান্ত কি হয় তা দেখা। তারপর সিদ্ধান্ত। বিএনপি মহাসচিব বাদে অন্য চার এমপি শপথ নেবেন না একথা কৌশলে এড়িয়ে বলেছেন এখনো কয়েকদিন সময় আছে দেখা যাক।

জানা গেছে, তারাও শপথ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবিষয়ে দলের হাইকমান্ডকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত দল সিদ্ধান্ত না দিলে তারাও শপথ নেবেন।

বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত মোশারফ হোসেন জানান, তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ব্যক্তিগতভাবে এই মুহূর্তে বলার মত তেমন কিছু নেই। এখনো সময় আছে। দেখা যাক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ থেকে নির্বাচিত হারুন অর রশিদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। যেহেতু ২৯ তারিখ পর্যন্ত সময় আছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে যোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো মতামত দেওয়ার সময় হয়নি। শপথ গ্রহণের বিষয় স্পিকারকে চিঠি দিতে দলীয় কোন অনুমতি লাগে কিনা এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ বলেন, শপথের বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রার্থীর নিজস্ব বিষয়। এখানে দলীয় কোন অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। যদি ওই সংসদ সদস্য মনে করেন যে তিনি শপথ নিবেন তাহলে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিতে পারেন। হারুন অর রশিদ বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নিয়ছেন এ বিষয় উনি বলতে পারবেন। তার শপথ প্রসঙ্গে আমার কোন বক্তব্য নাই।

নির্বাচনে বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি ওঠে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের হাইকমান্ড নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের বক্তব্য থেকে দূরে থাকতে বলেন। শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতার জন্য কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে নেতৃত্বে রদবদলের কথা বলেন। প্রয়োজন হলে পদ ছেড়ে দিতে চান। এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেন বিএনপি’র কয়কজন শীর্ষ নেতা।

দলীয় সূত্র জানায় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় দলের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই তার। তিনি দলীয় নেতাদের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে দল পরিচালনা করতে হবে। বেগম জিয়ার এ নিদের্শনার পর পর বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের কয়েকজন তা মেনে নিতে পারেননি। তারা খালেদা জিয়ার এই সিদ্ধান্তে নাখোশ হন বলে জানা যায়। তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে বিএনপির প্রথম সারির অন্তত দুজন এবং মধ্যমসারির ডজনখানেক নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে খুশি নন। সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত