প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশু জায়ান কি আমাদের চোখ খুলে দিতে পেরেছে?

অজয় দাশগুপ্ত, অস্ট্রেলিয়া থেকে : আমাদের কি বার্তা দিয়ে গেলো? খালি শোক আর সান্ত¡নাই কি আমাদের ঘিরে থাকবে না করণীয়ও কিছু আছে? আজ দুনিয়া এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে চোখ বুজে সমস্যা এড়ানো যাবে না। ঘাড়ের উপর দৈত্য রেখে আপনি কীভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন? দেখুন চোখ মেলে। চাইলেও এড়াতে পারবেন না বিপদ। কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় শ্রীলঙ্কা। তারপরও বেড়াতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিলো আমাদের ছোট বাচ্চাটি। কী নিদারুণ কী বীভৎস এই ঘটনা। জায়ানের জন্য আমাদের বুকভরা ভালোবাসা আর শোকের পাশাপাশি ঘটনার ভেতরে না গেলে বিশ্লেষণ না করলে মুক্তি মিলবে কীভাবে? সম্প্রতি তথ্য মিলেছে এই হামলার পেছনে যেসব আততায়ী তারা কেউ গরিব বা দরিদ্র ছিলো না। তারা সবাই সচ্ছল পরিবারের সন্তান। তাদের টাকা পয়সার অভাব ছিলো না। বরং বলা হচ্ছে টাকাই তাদের ভরসা দিয়েছে। খবরে দেখলাম কথিত আইএস এর দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সরকার সরাসরি তাদের দায় নাকচ করে দিয়ে বলছে তারা হয়তো আদর্শিক ও অর্থ সহযোগী। কিন্তু দেশের ভেতরেই আছে মূল হামলাকারীরা। মনে রাখা দরকার শ্রীলঙ্কা এ জাতীয় ঘটনা মোকাবেলায় যথেষ্ট পারদর্শী। তাদের অভিজ্ঞতাও প্রচুর। দেশটি দীর্ঘকাল ধরে গৃহযুদ্ধের ভেতর দিয়ে যাওয়া একটি দেশ।

তাদের জাতিগত সহিংসতা চলেছিলো অনেককাল। লাখো মানুষের মৃত্যু আর প্রচুর সর্বনাশের ভেতর দিয়ে যাওয়া দশকের পর দশকই জাতিকে কঠিন করে তুলেছে। যেভাবে তারা তামিল হিন্দু জনগোষ্ঠীকে দমন করেছিলো সেটাও প্রশ্নবোধক। তামিলরা এখন কোণঠাসা। তাদের বেঁচে থাকা তাগড়া জোয়ানের সংখ্যা হাতে গোনা। শুধু তাই নয়, এদেশে মাঝে মাঝে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর উপরও হামলা হয়। তা বলে একথা বলা যাবে না এমন প্রতিশোধ কাম্য বা এমন কোনো ঘটনা সমর্থনযোগ্য। বরং এতে যা স্পষ্ট তা একদিকে যেমন বেদনার আরেক দিকে এতে সভ্যতা পড়েছে হুমকির মুখে। ধর্ম মানুষকে ভরসা আর জীবন জয়ের জন্য দুনিয়ায় এসেছিলো সে ধর্ম আজ সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। অথবা ধর্মের নামে যেসব কাজ হচ্ছে সেগুলো কবর রচনা করছে সভ্যতার। এভাবে চললে মানুষ সভ্যতার ওপর আস্থা রাখতে পারবে কীভাবে? কীভাবে আমরা জানবো যে ঈশ্বর মানুষকে বাঁচান? সে প্রশ্ন যারা উসকে দিচ্ছে তারা নাকি ধার্মিক। তাদের এই উগ্রতা যারা সমর্থন করেন বা প্রকারান্তরে সমধারণা পোষণ করেন তারাও মূলত মানুষবিরোধী। ফলে আমরা এখন কঠিন মোকাবেলাই সমর্থন করতে বাধ্য হবো। আর যেটা বলছিলাম শ্রীলঙ্কা যেহেতু এসব বিষয় জানে আর তারা এগুলো মোকাবেলায় অভিজ্ঞ তারা শোধ তুলবেই। ইতোমধ্যে নীরিহ সংখ্যালঘুদের ভয়ার্ত চেহারা দেখেছি টিভিতে। এই শোধ প্রতিশোধ যতোদিন শেষ না হবে জায়ানের মতো শিশুরাও ভালো থাকবে না। বাঁচতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় সত্য বলেন। সেটা কারও পছন্দ হলেও তিনি বলেন না হলেও বলেন। এবারও বলতে ভোলেননি। তিনি যে সবাইকে সাবধান করলেন আর তেমন কিছু দেখলেই জানাতে বললেন এটা যে কতোবড় ঈঙ্গিত আর সাবধানতা সেটা আমরা এসব দেশে আগে থেকেই দেখে আসছি। এখানে ওয়ান ইলেভেনের পর থেকেই বলা হচ্ছে If you see something say something. নীরবতা এখানে অপরাধ।

শিশু জায়ানের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। মনে রাখা দরকার বাংলাদেশের এক শিশু বাচ্চাও আজ অনিরাপদ।
জায়ান কী আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে? আমরা কী বুঝতে পারছি কারা দেশ ও জাতির মূল দুশমন ? কারা এই পৃথিবীর ধ্বংস চায়? না বুঝলে সভ্যতা টিকবে না। এটাই মূল কথা।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ^বিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত