প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একে একে নিভিছে দেউটি : ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য কোথায়?

বিভুরঞ্জন সরকার : যে রকম ভেবেছিলাম ঘটনা সেরকমই ঘটছে। বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২৫ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন হয়তো তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হবেন। তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিও শপথ নিবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। একমাত্র দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হয়তো শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অবিচল থাকবেন। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে যদি বিএনপির বাকি এমপিরা শপথ না নেন তাহলে পরিস্থিতি একরকম হবে। আর সবাই যদি শপথ নেন তাহলে পরিস্থিতি হবে আরেক রকম। বিএনপির পাঁচ এমপি যদি সরাকারি আনুকূল্য নিয়ে সংসদে গিয়ে কথা বলার সুযোগ পান। তাহলে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। দলের সংকট বাড়বে।

একে একে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘর শূন্য হচ্ছে। আদর্শহীন এক নির্বাচনী ঐক্যের নাম হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যাকে সামনে রেখে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিলো সেই ড. কামাল হোসেনের রাজনীতি এবং ফ্রন্টের বড় শরিক বিএনপির রাজনীতি বিপরীত ধারার। ড. কামাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত। জয় বাংলা স্লোগানে বিশ্বাসী। অন্যদিকে বিএনপি চরম বঙ্গবন্ধুবিদ্বেষী। তাদের স্লোগান ‘জিন্দাবাদ’। এই দুই বিপরীত ধারার ঐক্যসূত্র হলো শেখ হাসিনাবিরোধিতা। ড. কামাল হোসেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় দেখতে চান না। বিএনপির চাওয়াও তাই। সেজন্য রাজনীতিতে সমমনা না হয়েও ড. কামালকে নিয়ে বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলো। কিন্তু নির্বাচনে চরম পরাজয় তাদের লক্ষ্যপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ইস্যুতে, বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে কামাল হোসেন এবং বিএনপির অবস্থানের ভিন্নতা প্রকাশ্যে চলে আসে।

নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের মোট আটজন এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এবং সংসদ সদস্যরা শপথ নেবে না বলে জানায়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই এমপি। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান এমপি হিসেবে শপথ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের বাধা দেয়া হয়। প্রথম সুলতান মনসুর এবং পরে মোকাব্বির খান দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ গ্রহণ করেন। দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি তারা গ্রাহ্য করেননি। ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এই প্রশ্ন সামনে আসে যে, বিএনপির এমপিরা কি করবেন? বিএনপির এমপিরা যে সংসদে যাওয়ার পক্ষে সে খবরও কারো অজানা নেই। কেবল বিএনপি নেতৃত্ব চাইছিলেন নিজেদের মুখরক্ষার জন্য সরকারের কাছ থেকে কিছু পেয়ে তারপর সংসদে যেতে। তাদের প্রধান চাওয়া দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। তিনি দুটি দুর্নীতি মামলায় দ-িত হয়ে বছরাধিককাল ধরে কারাগারে আছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শোনা যাচ্ছিলো যে, সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি সংসদে যাবে এবং খালেদা জিয়া ‘চিকিৎসার’ জন্য যাবেন দেশের বাইরে, লন্ডনে। খালেদা জিয়াকে সরকার প্যারোলে মুক্তি দিলে বিএনপির এমপিরা শপথ নিবেন। কিন্তু প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে খালেদা জিয়ার নিজের আপত্তি থাকায় বিষয়টি আর আগায়নি। বেগম জিয়ার মুক্তির সঙ্গে এমপিদের বিষয়টি শর্তযুক্ত করায় নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বিএনপির এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। এমপি যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা কেউই চান না যে, তাদের এমপি পদটি বাতিল হয়ে যাক। আকালের দিনে যারা তাদের প্রতি আস্থা রেখেছেন সেই ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এমপিরা শপথ নিতে চান, সংসদে যেতে চান। তারই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি ২৫ এপ্রিল শপথ নিয়েছেন। এখন বাকিরা তাকে অনুসরণ করেন কিনা সেটাই এখন দেখার। তবে হাওয়া ভালো নয়। একজন এমপি যখন ঝুঁকি নিয়েছেন, তখন অন্যরাও হয়তো থাকবেন না। সরকার যেটা চায়, সেটাই এখন হয়। কারণ সরকারের শক্তি সব বিবেচনায়ই বেশি। বিএনপি যা চায় তা হয় না, কারণ তারা দুর্বল। সরকার চায় বিএনপির এমপিদের সংসদে। বিএনপি চায় না। সরকারের চাওয়া পূরণ হওয়ার পথ সুগম করেছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি। অন্যরা কি বিএনপির চাওয়া পূরণ করবেন?

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত