প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নুরুল আনোয়ার বললেন, সামাজিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে না বলেই অপরাধের জন্ম দেয়ার সাহস পাচ্ছে অপরাধীরা

সৌরভ নূর : নুসরাত হত্যাকা- নিয়ে যখন দেশ সরগরম তার তিন দিনের মাথায় লক্ষীপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় এক নারীর গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হলো। এর আগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর দেশজুড়ে মাতামাতি হওয়ার কিছুদিন পরই আবার নোয়াখালীর ওই একই এলাকায় একইভাবে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়েই চলেছে, অন্যদিকে কোনো এক অজানা কারণে অপরাধীদের মনে ভয়ের সঞ্চার হচ্ছে না।

কেন এ ধরনের প্রবণতা বাড়ছে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজিপি নুরুল আনোয়ার বলেন, শহরে এমনকি গ্রামে বসবাসকারী আমরা সবাই এখন সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। একা একা বাস করি। একত্রিত হতে পারছি না। সেহেতু ঘৃণিত সব অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমাদের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেই, নেই কোনো সামাজিক আন্দোলন। ফলে অপরাধীরা সামাজিক প্রতিরোধের মুখে পড়ছে না। এজন্যই একের পর এক অপরাধের জন্ম দিয়ে অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে।

একটা ঘটনা যদি নোয়াখালীতে হয় তাহলে আরেকটি ঘটনা ঘটে অন্য কোথাও। একজন রহিম অন্যজন করিম। একটা ঘটনা যখন ঘটে তখন আমরা হইচই করি আবার অন্য একটা ইস্যু এলে আমরা সব ভুলে যাই। পরবর্তী সময়ে পূর্বের কথা কেউ আর মনে রাখি না। তখনই অপরাধীরা সুযোগ পায় নিজেদের বাঁচিয়ে নেয়ার। অন্যদিকে আমাদের সমাজের প্রগতিশীল নারীরা আধুনিকতার নামে যা করছে এবং ফেসবুকে নিজেদের যেভাবে উপস্থাপন করছে তার প্রভাব পড়ছে অপরাধপ্রবণ পুরুষের মধ্যে।

তারা ভেবে নিচ্ছে সব মেয়েরাই মনে হয় একই রকম। কিন্তু একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর পর যখন অপরাধীরা কল্পনার ব্যতিক্রম দেখেন তখন ধামাচাপা দিতে বড় ধরনের অপরাধের জন্ম দিয়ে থাকেন। যেমন আমরা নুসরাত হত্যাকা-ের ব্যাপারে দেখেছি। আরেকটা ব্যাপার প্রত্যেক অপরাধীর মধ্যেই কাজ করে ‘আমি পার পেয়ে যাবো’, অন্যরা ধরা পড়লেও আমি ধরা পড়বো না। এ ধরনের চিন্তা থেকেই নতুন অপরাধীর জন্ম হয়, অপরাধের ধরন পাল্টায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত