প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে

সুমন পাইক : অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সব ধরনের নিরাপত্তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে হবে। সেই সাথে তারা যেন দালাল বা প্রতারকদের ক্ষপ্পরে না পরে এবং কর্ম ক্ষেত্রে যৌন হয়রানির স্বীকার না হয় সেই ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অভিবাসী গার্মেন্টস নারীশ্রমিকদের সঠিক নিয়ম মেনে ও নিরাপদ অভিবাসন’ এর ওপর রিসার্চ শেয়ারিং সেমনিারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে গবেষণা উপস্থাপন করেন কর্মজীবী নারী’র পরিচালক রাহেলা রব্বানী। গবেষণা পত্রে বলা হয়, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে দেশের গার্মেন্টসে নারীশ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমে এসেছে। তাই বেশি আয়ের জন্য নারী শ্রমিকরা বিদেশের গার্মেন্টসে যেতে চায়। বিশেষ করে জর্ডান ও মরিশাসে। গবেষণা বলছে এই নারী শ্রমিকেরা প্রপার চ্যানেল সম্পর্কে জানে না বলে দালালের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে হয়রানি-শোষণ-বঞ্চনার শিকার হন তারা। আবার যারা সরকারিভাবে নিয়মের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তারাও ঐ দেশের গার্মেন্টসে কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ, ওভারটাইম না পাওয়া, এমনকি যেখানে থাকে সেই ডরমেটরিতেও তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সেই নারীশ্রমিকদের পাসপোর্টে রেড মার্ক করে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। দেশে আসার পর তারা সামাজিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী নারীশ্রমিকেরা বলছেন বিদেশে কাজে যাওয়ার পূর্বে ঐ দেশের ভাষা, সমাজ-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চায়। কাজ সম্পর্কে ধারণা ও দক্ষ হয়ে যেতে চায়। গবেষণাপত্রটি থেকে সুপারিশ করা হয়- যে নারী বিদেশ যাচ্ছে তাদের দক্ষ জনশক্তি করে গড়ে তুলতে সরকারিভাবে একটা প্রপার মেকানিজম তৈরি করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিরীন আখতার বলেন, দেশ দাঁড়িয়ে আছে তিনটি খুঁটির উপর। সেই তিনটি খুটি হল গার্মেন্টস, কৃষি ও অভিভাসী শ্রম। নারীকে ভিন্ন চোখে দেখার রাজনৈতিক দর্শন এখনও চলছে। সহিংসতার শিকার নুসরাত হিজাব পড়েও সহিংসতা থেকে পার পায়নি। আমাদের মেয়েরা বিদেশ যাচ্ছে। তারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। নারীশ্রমিকদেরও জানতে হবে তারা কোন আইনে, কোন নিয়মে বিদেশ যাচ্ছে। আর তাদের দক্ষতা ও সক্ষম করে গড়ে তোলার জন্য দরকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। নিরাপদ অভিবাসনের জন্য সরকারিভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিদেশে নারীশ্রমিকদের সংকটে পাশে দাঁড়াতে হবে।

ড. প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, এখন গ্লোবালাইজেশনের যুগ। নিরপাদ অভিবাসন বিষয়ে তৃণমূল থেকে তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের দুতাবাস গুলিকে শ্রমিকের বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, নারী শ্রমিকদের কাছ থেকেই সরকার প্রায় শতভাগ রেমিট্যান্স পায়, কারণ নারীরাই প্রপার চ্যানেলে টাকা পাঠায়। তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নারী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের প্রিন্সিপাল রিনা আক্তার জাহান বলেন, নারী শ্রমিকের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সংগঠন গুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব উইমেন টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের প্রিন্সিপল মোসাম্মৎ ফওজিয়া শাহনাজ, বিকেটিটিসিএর চিফ ইন্সট্রাকটর মোসাম্মৎ সাবিহা সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কর্মজীবী নারী’র সহ-সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত