প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাতম আপডেট

যায়নুদ্দিন সানী
সো? নুসরাতকে নিয়ে মাতম শেষ হল? একেবারে ফুল স্টপ না পড়লেও, পড়ি পড়ি করছে। জাস্ট ওয়েটিং ফর নেক্সট এভেন্ট। নতুন একটা রেপ কিংবা মার্ডার পেলেই লাফিয়ে উঠবে সবাই। যারা শোক করছেন, তাঁদের ব্যঙ্গ করছি না। আসলে আত্মসমালোচনা করছি। কোন এককালে আমিও এমন ছিলাম। আবেগে গদগদ কলাম লিখে প্রতিবাদ জানাতাম। ‘এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, ব্লা ব্লা ব্লা’। এখন আর করি না। কুইক লার্নার। বুঝে গেছি, এসব আসলে ইভেন্ট। মাতম করার ইভেন্ট। এখন তাই এসব ঘটলে পপ কর্ন সাথে নিয়ে বসে পড়ি। টিভি জার্নালিস্টদের আবোল তাবোল প্রশ্ন শুনি। হাসি। চ্যানেল পাল্টাই। ব্যাস। এরপরে নিশ্চিন্ত ঘুম, ‘আমার তো কিছু হয়নি!’
এবারও তাই করেছি। কোন স্ট্যাটাস দিইনি। প্রোফাইল পিক পাল্টাইনি। অ্যান্ড মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট, মানববন্ধনে কালো ড্রেস পরে যাইনি। আমার কালো পাঞ্জাবি নাই, সেটাও একটা ফ্যাক্টর। যাইহোক, আজকে কেন যেন লিখতে ইচ্ছে করছে। কোন লাইনে লিখব ভাবছিলাম। ‘হিজাব পরা মেয়ে তাও রক্ষা পেল না’ এই লাইনে লিখব? ওটা তনুর সময় অনেকে লিখে ফেলেছে। ওটার এখনও বাজার দর খারাপ না, তবে নতুনত্ব নেই। ‘আগুনে পোড়ানো’ নিয়ে? সেই সুযোগে চামে বিএনপিকে দুলাইন শুনিয়ে দেয়া যাবে। বলা যায়, বাট রিস্ক হচ্ছে গায়ে লেবেল লেগে যাবে। সবাই বলবে চেতনা বাহিনী। মাদ্রাসা শিক্ষার অপকারিতা নিয়ে বলার জন্য আছে সেকুলার বুদ্ধিজীবী। তারচেয়ে বরং স্মৃতি রোমন্থন করি।
এখানে এসেও সমস্যায় পড়লাম। স্মৃতি হাতড়ে ভাল কোন ইভেন্টের কথা মনে করতে পারলাম না। সাগর-রুনি, তনু, সাজিয়া ব্যাস শেষ। আর মনে করতে পারছি না। শিট। এতো ভুলোমন হলে হয়? গুগল করা যায়, বাট সেটা তো অনেস্টি হল না। আপন জুয়েলার্স কেসটায় ছেলেটার নামটা কি ছিল? মনে করতে পারছি না। আপনাদের আছে?
এনিওয়ে, এবারের কাহিনীটা নিয়ে একটু কিচিরমিচির করা যাক। নতুন কিছু না। সেই পুরনো দাবী। ছাত্রীর কাছে একজন শিক্ষকের আবদার ‘তোমাকে চাই’। অ্যান্ড ফ্ল্যাট ডিনায়াল। এরপরে ডিনায়ালের ভয়ংকর শাস্তি। একসময় অ্যাসিড ছিল, এখন কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে মারা। এটাই ঘটেছে, এমন দাবী করছি না। বলছি কাহিনীর এই ভাষ্যটাই মিডিয়া অ্যাকসেপ্ট করেছে।
সো, পুরনো কাহিনীর আলোকে দেখলে এটাকে বলা যায় এ মিক্স অফ পরিমল অ্যান্ড তনু। টিচার কর্তৃক ছাত্রী মলাস্ট অ্যান্ড কোন দাবী না মানায় হত্যা। দুটোই আছে। এক সিটিংয়ে নেই। কিছুদিন গ্যাপে আছে। সাথে যোগ হয়েছে, ভেনু। ঘটনাস্থল হচ্ছে মাদ্রাসা। সো, মাতম করার জন্য অনেক অনেক অ্যাঙ্গেল আছে। এবার নতুন একটা সিম্পটম দেখলাম। কালো ড্রেস পরার ফ্যাশান। ‘আমি কালকে কালো ড্রেস পরে মাতম করব।’ হোয়াট অ্যান্ড ইনোভেশান। আই লাইকড ইট। রিয়েলি অসাম আইডিয়া।
এনিওয়ে, সাসপেক্টেড হোতা অ্যারেস্ট হয়েছে। সেটা রেইনট্রি কেসেও হয়েছিল। তখন সব কিছু দেখে একজন অ্যাডভোকেট বলেছিলেন, কিসসু হবে না। প্রথম প্রথম বেশ কিছুদিন জামিন দিবে না। মিডিয়ার চোখ সরলেই, এই ব্যাটা জামিনও পাবে এবং কেসের অবস্থাও হবে তথৈবচ। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ঘটনাগুলো যখন ঘটল, তখন সেই মাতম বাহিনীর আর কোন পাত্তা নেই। তাঁরা এখন ব্যস্ত কালো ড্রেস কিনতে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘তাহলে কি মাতম করব না?’ তাই তো? চোখের সামনে এমন অন্যায় অত্যাচার দেখে চুপ করে থাকব? বিবেক কি আমাদের ঘুমাতে দেবে? নাগরিক হিসেবে কি আমাদের কোন দায়িত্ব নেই? ‘এই মৃত্যু উপত্যকা কি আমার দেশ?’ টাইপ কোন কবিতা লিখব না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভ্যাঙ্গাব না? প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইব না?
এব্যাপার আমার কোন উপদেশ নেই। কি করবেন, না করবেন, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি শুধু একটা তথ্যই জানাচ্ছি, আগের কেসগুলোতে কিসসু হয়নি। ব্যাস। আবেগের পুটলি পাশে রেখে একটু ভাবতে শিখুন, গলদটা কোথায়? এসব মৃত্যুকে ইভেন্ট বানিয়ে, প্রোফাইল পিক পাল্টে, দরদ উথলানো স্ট্যাটাস দেয়ার বিপক্ষে আমি না। দিন। ওটাই যখন ট্রেন্ড, করবেন না কেন?
আগেরবারের ইভেন্টগুলোতে অ্যারেস্ট ছাড়া এসবে যে কিছু হয়নি, এটাই শুধু জানাচ্ছি। ওক্কে? এন্্জয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত