প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে চীন

শাহীন চৌধুরী : রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (এনপিপি) নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে কয়েকটি চীনা কোম্পানি। ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন প্রস্তাবিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জাপানের এটমিক এনার্জি কমিশন এজেন্সিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রমতে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দুটি চীনা কোম্পানি দংফেং ইলেকট্রিক কর্পোরেশন (ডিইসি) ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএসসিইসি) ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি কমিশনে দেন দরবার করছেন। কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৪ সালে সরকার দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে রাজি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আগ্রহী বিদেশী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন প্রস্তাব চাওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে পাবনার রূপপুরে। এই কেন্দ্রের দুটি চুল্লির মধ্যে একটি ২০২৩ সালে কমিশন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুয়াংডং নিউক্লিয়ার পাওয়ার গ্রুপসহ আরো কয়েকটি চীনা কোম্পানি দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছে। চলতি বছরের জুনের দিকে এই কেন্দ্রের জন্য স্থান নির্বাচন করা হতে পারে।

জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল সিএসসিইসি বাংলাদেশে দ্বিতীয় এনপিপি নির্মাণের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে লিখিত প্রস্তাব পেশ করে। চীনা প্রস্তাবের ব্যাপারে বাংলাদেশ এখনো কোন জবাব দেননি। এই কোম্পানি ১৯৮৭ সালে প্রথম চীনা এনপিপি ‘দায়া বে’ নির্মাণ করে। কর্মকর্তারা জানান, চীনা কর্পোরেশন সময়মতো কাজ শুরু ও শেষ করার ব্যাপারে কমিশনকে নিশ্চয়তা দিয়েছে। নির্মাণে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশে পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রকল্প বাস্তবায়নের খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নিশ্চয়তা দেয়া হয়।

অপর একটি সূত্রমতে, সরকার যেহেতু জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে তেমন স্বচ্ছতা রক্ষা করে না তাই অনেক চীনা কোম্পানি এভাবে বড় বড় প্রকল্প লাভের চেষ্টা করছে। তবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে চীনাদের আগ্রহ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা নেই। অবশ্য প্রকল্প একটি সুনির্দিষ্ট রূপ নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটমিক এনার্জি কমিশন অপেক্ষা করবে। কর্মকর্তারা বলছেন, পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার উপক‚লীয় এলাকায় দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে চাচ্ছে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি শীতল রাখার জন্য প্রতিদিন পাশের পদ্মা নদী থেকে ১ হাজার ৭৫০ ঘনমিটার পানি টেনে আনা হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, তারা স্থান নির্বাচনের সময় আরো ছয় মাস বাড়াতে পারেন। কমিশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক এর আগে বলেছিলেন, দংফেং ইলেকট্রিক কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা প্রায় দুই মাস আগে তার সঙ্গে সাক্ষাত করে প্রস্তাবিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আরো জানান, যে সম্ভাব্য চারটি স্থানের ব্যাপারে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। এগুলো হলো- পটুয়াখালীর গঙ্গামাটি, বরগুনার মাঝের চর, নোয়াখালীর বয়ার চর ও ফেনীর মুহুরির চর। গভীর সমুদ্র বন্দর ও নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পটুয়াখালীকে একটি আধুনিক উপক‚লীয় অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি পরিকল্পনার কারণে অন্য তিনটি স্থানের চেয়ে গঙ্গামাটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত