প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা

মৌরী সিদ্দিকা : বোমা বিস্ফোরণের পর কলম্বোর সেন্ট এন্টনি গির্জার সামনে নিরাপত্তা সদস্যদের প্রহরা
শ্রীলংকায় বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় একটি চরমপন্থী মুসলিম গ্রুপ জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশের পর দেশেটির মুসলিম সম্প্রদায় প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছে। শ্রীলঙ্কা তাওহিদ জামাহ (এসএলটিজে)’র একটি দলছুট অংশ ন্যাশনাল তাওহিদ জামাহ (এনটিজে)’র বিরুদ্ধে রোববার ছয়টি চার্চ ও রেসর্ট এবং আরো দুটি জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটনোর তদন্ত চলছে। আত্মঘাতি হামলকারীদের একজন এর আগে কেগালি জেলার মাওয়ানিলায় বুদ্ধমুর্তি ভাঙ্গার দায়ে গ্রেফতার হয়েছিলো বলে জানা যায়। – সাউথ এশিয়ান মনিটর

বোমা হামলার হোতাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা তাদের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। জানা গেছে শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা এসএলটিজে এবং চরমপন্থী তৎপরতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে তদন্তকারীদের সহায়তা করেছেন। এই সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজিককে ২০১৬ সালে বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান। নতুন গ্রুপ এনটিজেকে রোববারের বিস্ফোরণের জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই হামলার পেছনে বিদেশী হাত রয়েছে কিনা সে বিষয়ে গোয়েন্দারা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। চরমপন্থী গ্রুপটির উপর নজর রাখা সাইট ইনটেলিজেন্স জানায় যে শ্রীলঙ্কায় হামলার পর আইএসআইএস সদস্যরা উল্লাস প্রকাশ করে এবং বলে যে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। সাইট ইনটেলিজেন্সের পরিচালক রিতা কাতজ জানিয়েছেন যে আইএস-এর সমর্থকরা অনলাইনে হত্যাযজ্ঞের ছবি নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। এটা ঠিক বিস্ফোরণের যে মাত্রা ও যেভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিস্ফোরণগুলো ঘটনো হয়েছে তা স্থানীয় কোন মুসলিম গ্রুপের সামর্থ্যরে বাইরে। এই মাত্রার কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড তাদের দ্বারা কখনো হয়নি। স্থানীয় মুসুলিম তরুণদের দীক্ষা দেয়ার পর তাদেরকে এই কাজে ব্যবহার করায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আতংকিত হয়ে পড়েছে।

আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও কেন তা উপেক্ষা করা হলো তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিঙ্গে। কয়েকজন মন্ত্রী টুইট করেন যে তাদের কাছে সম্ভাব্য হামলার তথ্য ছিলো। এমনকি একজন খ্রিস্টান মন্ত্রী এও বলেন যে তার পিতা সম্ভাব্য হামলার আশংকায় ইস্টার সার্ভিসে যোগ দিতে নিষেধ করেছিলেন।

এদিকে এই ঘটনার জের ধরে শ্রীলঙ্কার ১০ শতাংশ মুসলিম নাগরিকরা যেন কোন ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মুসলিমরা এমনিতেই বুদ্ধিস্ট চরমপন্থী গ্রুপ বুদু বালা সেনা (বিবিএস) দ্বারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। ক্ষতিকর ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়ানো কারণেই গত মার্চে আমপারা ও ক্যান্ডিতে মুসলিম-বিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিলো বলে ধারণা।

এদিকে শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের সদস্যরা জানিয়েছেন যে তারা তিন বছর আগেই চরমপন্থী ব্যক্তিদের ব্যাপারে দেশের গোয়েন্দা বিভাগকে সতর্ক করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করতে সকল নাম ও বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছিলেন।

মুসলিম সম্প্রদায়ের সূত্রগুলো জানায়, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে দেখা যায় যে ৯০-১০০ লংকান তরুণ মুসলিম চরমপন্থা গ্রহণ করেছে। ইতোপূর্বে গ্রেফতারের পর কয়েকজন সন্দেহভাজন চরমপন্থীকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য কয়েকজন মুসলিম মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে। ২০১৬ সালে আইনমন্ত্রী বিজয়দাসা রাজাপাকসা পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন যে শ্রীলংকা থেকে সুশিক্ষিত মুসলিম পরিবারের ৩২ জন তরুণ সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে। কিন্তু মুসলিম রাজনীতিকরা রাজাপাকসার বক্তব্যকে বর্ণবাদ আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেন এবং এর নিন্দা জানান।

তবে যুদ্ধপরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কাায় বৌদ্ধ চরমপন্থার উত্থান মুসলিম মৌলবাদের উত্থান নিয়ে আলোচনাকে কঠিন করে তোলে। এই আলোচনার জের ধরে বৌদ্ধ চরমপন্থীরা শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের টার্গেট করতে পারে বলে আশংকা করা হয়। বিশেষ করে শ্রীলংকার প‚র্বাঞ্চলে ওহাবিজমের উত্থানের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরমপন্থার উত্থান লক্ষ্য করা যায়।

তবে এখন শ্রীলঙ্কায় চরমপন্থার বিস্তার রোধের ব্যাপারে ব্যাপকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং টুইটারে অনেক মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও তরুণ রোববারের হামলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন এবং মুসলিমদেরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় ও জাতিগত বিভক্তির বিষয়টি তুলে ধরতে কলম্বোভিত্তিক সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ কাজ করছে। তারা ইসলামের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরার জন্য গত দুই বছর ধরে অন্য ধর্ম বিশ্বাসীদের জন্য নিয়মিত মসজিদ সফরের ব্যবস্থা করে আসছে। এই সংগঠনটি সব ধরনের চরমপন্থার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান ও পোস্টার ছাপিয়ে বিলিও করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত