প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মঙ্গলশোভাযাত্রার বদলে বর্ণাঢ্য র‌্যালি কেন?

অসীম সাহা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বাংলাদেশের মানচিত্রের অংশ? যদি তাই হয়, তা হলে এবার সারাদেশে যেখানে মঙ্গলশোভাযাত্রাসহ এক দুর্দান্ত আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ১লা বৈশাখ পালিত হলো, সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে কেন মঙ্গলশোভাযাত্রা না করে ১লা বৈশাখের ব্যানারে শুধু ‘নববর্ষের বর্ণাঢ্য র‌্যালি’ লিখে দায়সারাভাবে এবারের ১লা বৈশাখ উদ্যাপন করা হলো? এ-ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক কী উদ্দেশ্যে, কার প্ররোচনায় মঙ্গলশোভারযাত্রাকে ‘বর্ণাঢ্য র‌্যালি’ বানিয়ে ফেললেন? তিনি কি ইচ্ছেকৃতভাবে বাঙালি ঐতিহ্যবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন নাকি তার পেছনে ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের প্ররোচনা বা হুমকি রয়েছে?

গত ২০১৭ এবং ২০১৮-তেও যেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘নববর্ষের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ব্যানার নিয়ে র‌্যালি বের করা হয়েছিলো, সেক্ষেত্রে ২০১৯-এ এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এমন কী ঘটলো যে, মঙ্গলশোভাযাত্রার বদলে অমঙ্গলের র‌্যালি বের করা হলো? ব্রাহ্মবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক কে? তিনি কি বাঙালির ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে ধারণ করেন? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতেই কী করে এইসব বাধা সৃষ্টি করার দুঃসাহস তিনি দেখাতে পারেন? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো একটি ছোট শহরের ঘটনা বলে একে উদাসীনতা নিয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ষড়যন্ত্রের অণুকর্ম কিন্তু যে কোনো স্থান থেকে শুরু হতে পারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেদিক থেকে অনেক এগিয়ে আছে। যে অঞ্চলে উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মতো সঙ্গীত-কিংবদন্তির জন্ম, শচীনদেব বর্মনের মতো সঙ্গীতমনীষীর জন্ম, সেখানে ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের আস্ফালনও আমরা দেখেছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নানা সময় বিব্রতকর অবস্থায় ও বেকায়দায় ফেলার জন্য এই পুণ্যভূমিকে যারা কলঙ্কিত করেছিলো, তারা কিন্তু এখনও চুপ করে বসে নেই। প্রশাসনের অভ্যন্তরেও স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রীমহল এখনো তৎপর রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার মঙ্গলশোভাযাত্রার বদলে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করার পেছনে তাদের হাত থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ-ব্যাপারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে, জেলা প্রশাসক কাদের লোক? যদি মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য তিনি স্বেচ্ছায় কিংবা অন্য কারো প্ররোচনায় এটা করে থাকেন, তা হলে অবিলম্বে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির কাউকে সেখানে নিয়োগ দান করতে হবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রশাসনে বাঙালি-সংস্কৃতিবিরোধী কাউকে ক্ষমতায় থেকে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ দিতে পারে না। দেশের অসাম্প্রদায়িক জনগণ কিছুতেই তা মেনে নিতেও পারে না।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত