প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রণদাপ্রসাদ সাহা হত্যা মামলার রায় যে কোনো দিন

নিউজ ডেস্ক : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা (আরপি সাহা) ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যা মামলার রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে।

আসামি ও বাদীপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এ সময় মামলায় গ্রেফতার আসামি মাহবুবুর রহমান ট্রাইব্যুনালে ছিলেন।

প্রসিকিউশন পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। আসামিপক্ষে ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ বছর বয়সী আসামি মাহবুবুর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি ও তার ভাই আবদুল মান্নান তখন রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর সহযেগিতায় আসামিরা হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ করে। স্বাধীনতার পর মান্নান মারা যায়।

প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত সমকালকে বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ এ মামলায় ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতের কাছে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা চাওয়া হয়েছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম বলেন, রণদাপ্রসাদ সাহা হত্যাকাণ্ডের ৪৮ বছর পর বিচার হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক এবং হতাশাজনক বিষয়। আরও দুঃখজনক হচ্ছে, তার হত্যার পর কোথাও কোনো থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত করা হয়নি।

তিনি বলেন, এ মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই বলেছেন রণদাপ্রসাদ সাহা নিখোঁজ হয়েছেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে, এ কথা কোনো সাক্ষীই বলেননি। আইনজীবী তামিম মনে করেন, প্রসিকিউশন তার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তিনি তার মক্কেলের খালাস চেয়েছেন।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আসামি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ মার্চ চার্জ গঠন করেন। ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা জারির পর একই বছরের নভেম্বরে মাহবুবকে গ্রেফতার করা হয়। মাহবুব একসময় জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্দলীয়ভাবে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে প্রতিবারই পরাজিত হন।

২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এ মামলার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই দিন সংস্থার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, একাত্তরের ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্য রণদাপ্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালায়। তারা রণদাপ্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানীপ্রসাদ সাহা (রবি), রণদাপ্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলবসহ সাতজনকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়। সেসব লাশ আর পাওয়া যায়নি।

রণদাপ্রসাদ সাহার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসায় যুক্ত হয়ে তিনি সেখানে থাকতে শুরু করেন। মানব সেবায় অসামান্য অবদান রাখায় স্বাধীন দেশে তাকে স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) দেওয়া হয়।

সূত্র : সমকাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত