প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬ বছর
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল-সমাবেশ

এম এ হালিম, সাভার : ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিল্প দূর্ঘটনা সাভারে বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধ্বসের ৬ বছর পুর্তি উপলক্ষে নিহত ও নিখোঁজদের স্মরনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে দলে দলে মিছিল নিয়ে ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার সামনে হাজির হয় হাজার হাজার মানুষ। পরে তারা একে একে ভবন ধ্বসের স্থানে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় রানা প্লাজায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরন করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন শ্রমিক সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ। এছাড়া দলীয় এবং সংগঠনের ব্যানার ছাড়াও অনেক আহত শ্রমিক এবং স্বজনহারা লোকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ভবন ধ্বসে নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের স্মরনে ঢাকা জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে ভবন ধ্বসের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরন দাবি করে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট সৌমিত্র কুমার দাশ, আহসান হাবিব বুলবুল, আনিসুর রহমান, কাওসার আহমেদ প্রমুখ। সভায় বক্তাগন বলেন, রানাপ্লাজা ধ্বসের ৬ বছর পুর্ন হলেও ভবন ধ্বসে হত্যাকান্ডে নিহত ১১৩৬ জন শ্রমিক পরিবার তাদের স্বজন হত্যার বিচার পায়নি। হত্যাকান্ডের অভিযুক্ত ভবন মালিকসহ গার্মেন্টস মালিকদের কোন বিচারই হয়নি। ফলে মালিকরা দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া বক্তাগন আরও বলেন যে, শ্রমিক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের ন্যায্য দাবিতে কথা বলতে গেলে নিরীহ শ্রমিকদের ও শ্রমিকনেতাদের নামে মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা করা হয়। অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরন আইএলও কনভেনশন অনুযাযী ৪৮ লক্ষ টাকা করা সহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করে আইন প্রনয়নের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ৬ বছর অতিবাহিত হলেও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। এছাড়া আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, ২৪ শে এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা, রানা প্লাজার সামনে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ এবং রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহন করে সরকারীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে পুনর্বাসন করার দাবি জানান।

গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখনও ভবন ধ্বসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার হয়নি। তাই রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার বিচারের পাশাপাশি এ ভবনটি তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির পক্ষ থেকে আমরা প্রতিমাসের ২৪ তারিখে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরনের দাবিতে সভা সমাবেশ করি। কারন শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন ছাড়া শিল্প খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিল্প কারখানার বিকাশে উপযুক্ত কর্ম পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্ষতিপূরনের আইন বদল করে শ্রমিকদের এক জীবনের সম পরিমান আয়ের সমান ক্ষতিপূরন প্রদানের দাবি জানান।

এদিকে ছেলের স্মৃতি মনে করে সাভারে রানা প্লাজার সামনে ছবি নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার তৃতীয় তলার নিউ ওয়েব বটম লিমিটেড কারখানার শ্রমিক সেলিমের মা সহ অনেক নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনেরা।
উল্লেখ্য, ৬ বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ধসে পরেছিল রানা প্লাজা। সকাল ৮ টায় বেতন বন্ধ করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কারখানায় ঢোকানো হয় শ্রমিকদের। এর ৪৫ মিনিটের মাথায় হঠাৎ বিকট শব্দে ধ্বসে পরে অবৈধভাবে বানানো এ ভবনটি। ভবনধ্বসে ১১৩৬ জন শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ শিল্প দূর্ঘটনা হলেও এই দিনটিকে সরকারী ভাবে আজও স্বীকৃতি দেওয়া হয় নাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত