প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে সহায়তা-ষড়যন্ত্রকারীদেরও বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

তরিকুল সুমন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলার বিচার নিষ্পন্ন হয়েছে। শুধুমাত্র এ ঘৃণ্য কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতরাই নয়, সহায়তাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। বুধবার সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান (লক্ষ্মীপুর-১) এর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চতুর্থবার সরকার গঠন করার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বে যড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পায় । এ সব তথ্য হতে দেখা যায় পরোক্ষভাবে দেশি বিদেশি কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তাই এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অন্যান্য পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও কলঙ্কিত দিন। এদিন বর্বর ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে আমার বাবা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠে বাঙ্গালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শহীদ হন। আমি এদিন হারি আমার মমতামী মা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবকে। আমার তিন ভাই শেখ জামাল, শেখ কামাল এবং ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলসহ আমার দুই ভাইয়ের স্ত্রী ঘাতকের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। বাংলাদেশে ইতিহাসের এটা একটি জঘন্যতম বর্বর হত্যাকান্ড। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। ইতিহাসের সেই খলনায়করা শুধ বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই নয় , হত্যা করতে চেয়েছিল পৃথিবার বুকে লাল সবুজের অহঙ্কার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ রাষ্ট্রকেও । এমনকি বঙ্গবন্ধু খুনিদের । যাতে বিচারের সম্মুখীন হতে না হয় , সে জন্য খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম জেনারেল জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকাকালীন এসব খুনিদের বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে। এরপর জেনারেল এরশাদ ও বিএনপি ‘ র নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বহাল রেখে এইসব আত্মস্বীকৃত খুনীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে। সরকার গঠন করার পর আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার কার্যক্রম শুরু করে। একইসাথে শুরু করা হয় জাতীয় চার নেতার জেলখানার অভ্যন্তরে নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার। কোন বিশেষ আইনে অথবা কোন বিশেষ আদালতে তাদের বিচার করা হয়নি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রচলিত আইনে হত্যাকারীদের বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং আপীল শুনানী শেষে হত্যাকারীদের সাজা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার কয়েকজন আসামী জেল হত্যা মামলারও আসামী। জেল হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষিত এবং আপীলসহ বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় উক্ত মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী ৫ জন খুনির দন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া ৫ জন আসামীর মধ্যে জেল হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৪ জন আসামী রয়েছে।

তবে যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে বা আশ্রয় গ্রহণ করে আছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে আইন , বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় , পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। এখনও যে সব খনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে এবং আশ্রয় গ্রহণ করে আছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। পলাতক আসামী নুর চৌধুরী কিভাবে কানাডায় বসবাস করছেন (লিগ্যাল ট্যাটাস ) সে সম্পর্কে তথ্য দিতে কানাডা সরকারকে বাধ্য করতে ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিস এর আদালতে আবেদন করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ এ বিষয়ে আদালতে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শুনানি শেষে বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। পলাতক আসামী রাশেদ চৌধুরীকে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে আনতে কুটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হতে আইনগত বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সেখানে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া , অন্যান্য পলাতক আসামীদের ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স কাজ করছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারী করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত