প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারাদেশে বেশ কয়েকটা অগ্নিকা- ও কিছু যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকারআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য আমি কোনো প্রার্থী নই, আবার আমি অযোগ্যও কেউ নই

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশিক রহমান

 

বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে আছেন। তার আরও মামলা বিচারধীন রয়েছে। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি প্যারোলে মুক্তি চাইতে পারেন। প্যারোলে মুক্তি তিনি পাবেন কিনা, তার সবটাই নির্ভর করে বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে। তিনি কি আসলে প্যারোলে মুক্তি চান? এখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া, তিনি প্যারোলে মুক্তি চান কিনা, দুই. সরকার। সরকার চাইলে বেগম জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার আছে কিনা? আছে।

যেকোনো সময় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার অধিকার এবং সুযোগÑদুটিই সরকারের আছে। বেগম জিয়া যদি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে সরকারের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন তাহলে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত আমরা জানি না বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান কিনা। কারণ তার দল বিএনপিও এ নিয়ে কোনো কথা বলছে না। দল বা বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান কি চান না এটিই যখন আমরা জানি না তখন আমরা কি করতে পারি? আমি পষ্কিারভাবে বলতে চাইÑ বেগম খালেদা জিয়া যদি প্যারোলে মুক্তি চান তাহলে অবশ্যই সরকারের এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত এবং বিবেচনা করবে বলেই আমি মনে করি।

আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালন করছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনা করছেন। একাদশ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার একশ দিন পূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে ওয়াদা করেছিলোÑ দেশে শান্তি, প্রগতি, উন্নতি, নিরাপদ, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবো। এই একশ দিন শেষে আমরা বলতে চাইÑ সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ চলমান মেঘা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সার্বিকভাবে বললে, দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করছে। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো ঘটছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ সারাদেশে বেশ কয়েকটা অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। কিছু যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। কিন্তু সবদিক বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো আছে। শান্তি ও প্রগতির পথে আছে বলেই মনে করি আমি।

আমাদের দেশে একটি রাজনৈতিক দীনতা রয়েছে। আমি জিততে পারলে নির্বাচন শুদ্ধ হয়েছে, না জিতলে নির্বাচন অশুদ্ধ হয়ে যায়। এখানে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যাকে আমি বলি অপরাজনৈতিক সংস্কৃতি। আজকে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এককভাবে সরকারি দলের পক্ষে সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকতে হবে, গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করতে হবে সবাইকে। গণতান্ত্রিক পথের কতোগুলো নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে। এর বাইরে গেলে দুর্ঘটনা কবলিত হয় গণতন্ত্র। ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী ও রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে হবে সরকার ও বিরোধীদলগুলো। বিরোধীদলগুলোকে মনে করে ক্ষমতায় না যেতে পারলে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। আমার আর কোনো দায়িত্ব নেই। রাজনৈতিক এই অপসংস্কৃতি দেশবাসীর জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সামনে। দলের নেতৃত্বে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে তা আগাম বলা মুশকিল। আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন, যার ভিত্তি অত্যন্ত শক্ত। আমি নিজেও দুটি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছি, রাজশাহী এবং রংপুর। সংগঠনটিকে আমরা ঝাঁকুনি দিচ্ছি, গিয়ারআপ করছি। আমরা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা সম্মেলন করে যে সমস্ত জেলায় কমিটিগুলো মেয়াদোক্তীর্ণ হয়ে গেছে, সেই সম্মেলনগুলো আমরা করবো। জেলা সম্মেলন শেষ করে আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল হবে, এখন পর্যন্ত সেটাই লক্ষ্য। ওই সম্মেলনে দলের নেতা নির্বাচন করা হয়। নেতা নির্বাচনের যে পথ-পদ্ধতি রয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, যিনি ৩৫  বছর ধরে এই সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন, তার বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে দলটি চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায়। দেশ পরিচালনা করছে। তার শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণে হত্যা, ক্যুর রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হয়ে একট গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে।  সেক্ষেত্রে আমরা চাইÑ মাননীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আগামীতেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকবেন। সাধারণ সম্পাদক কে হবেনÑ সেটি দলের সভানেত্রীর ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন, যাকে দিয়ে সংগঠন সুসংগঠিত হবে বলে মনে করবেন তাকেই দেবেন। সেই এখতিয়ার তার রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য আমি কোনো প্রার্থী নই, আবার আমি অযোগ্য কেউও নই। যদি আমার ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয় তাহলে আমি úূর্ণ প্রস্তুত সেই দায়িত্ব নিতে। কারণ সংগঠনের দায়িত্ব পালন করার অতীত অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির সেক্রেটি দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু হয়েছিলো। আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর যুবলীগকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমার ওপর দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়া থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী যদি আমাকে সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য মনে করেন, আমি সম্পূর্ণ রয়েছে সেই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। তবে আমি কোনো প্রার্থী নই।

আগুন বা যৌন নিপীড়নের ঘটনাসমূহে সরকার কোনোভাবেই বিব্রত বা অস্বস্তি বোধ করছে না। কারণ এ ধরনের ঘটনা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ ছাড়া অগ্নিকা-ের মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা তো শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশে^ই ঘটছে। খুব সম্প্রতি ফ্রান্সের ৮০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী গির্জায়ও আগুন লেগেছে। কেউ কি আটকাতে পেরেছে এই আগুন? না। কারণ এটি দুর্ঘটনা। আচমকা ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা রোধ করা প্রায় অসম্ভব। তবে যেটা সম্ভব সেটা আমরা করছি।  ঘটনার মধ্যে নাশকতা বা ষড়যন্ত্র থাকলে সেটা বের করার চেষ্টা আছে, আর দুর্ঘটনা হলে সেটা যাতে আর না ঘটে সেই পদক্ষেপটাও নিচ্ছি। সরকার বসে নেই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক সে লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। কারণ ইতোমধ্যেই জাতির জনককন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই প্রমাণ জনগণসহ সারাবিশে^র কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।  দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহ এমনভাবে বাড়ছে শত ষড়যন্ত্র করেও তা আটকানোর সাধ্য কারও নেই। কেউ যদি বাংলাদেশের এই অগ্রগতির গতি থামাতে চায়, ভুল করবে। জনগণ ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিরোধ করবে।

আমরা অর্থনৈতিকভাবে কতো এগিয়েছি সাধারণ মানুষের জীবনমান দেখলেই বোঝা যায়। আজকে দেশে কোনো মঙ্গা নেই। নেই কোনো খাদ্যাভাব। না খেয়েও থাকতে হয় না। যেটা বিএনপিসহ অন্যান্য সরকারগুলোর শাসনামলে দেখেছিÑ দেশে বহু মানুষ না খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে। বেকার যুবকেরা কাজ পাচ্ছে, সেই জায়গাটায় তো বর্তমান সরকার বেশ সফল। মানুষ এখন চাইলে কোনো না কোনো কাজ পাচ্ছে। কষ্ট করলে ভালো রোজগারও করতে পারছে। আমরা বলছি নাÑ দেশে বেকার নেই। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা এটুকু তো বলতে পারিÑ দেশ অসম্ভবকে সম্ভবে রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

গ্রামে বিল্ডিং হচ্ছে। শহরগুলো বড় বড়  অট্টালিকা গড়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে অনেক বড় বড় বিল্ডিং গড়ে উঠছে। এই ভবনগুলোতে যে ব্যবস্থা থাকা দরকার যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়, তা নিশ্চিত করা জনপ্রত্যাশা। আমার বাড়ির, আমার ঘরের, আমার আঙ্গিনা আগুনমুক্ত রাখতে নিজেদেরকেই প্রথমে সতর্ক থাকতে হবে। আগুন লাগার পর তো ফায়ার ফাইটাররা আসবেন। তবে অনুমোদনহীন বিল্ডিংগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর। সতর্ক। কিছু অর্থলোভী মানুষ এসব অনিয়ম করছে। তাদেরকে অবশ্যই প্রতিহত করা উচিত এবং সেটা করতে বদ্ধপরিকর। এসব অনিয়ম প্রতিহত করার যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এফআর ভবনে রাজউকের অনুমোদন ছিলো একধরনের কিন্তু তারা অনুমোদনকে তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামাফিক সেটা বাড়িয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ফায়ার ফাইটারদের পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদির অভাব আছে বলে আমি মনে করি না। যারা এটা বলছেন, তা সঠিক নয়। কারণ বিল্ডিং কোড না মানার কারণে ফায়ার ফাইটাররা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন না। এ ছাড়া ঢাকা শহরের যে যানজট তা অতিক্রম করে ফায়ার ফাইটাররা উদ্ধারকারী দলকে যেতে সময় লাগে। এই যাওয়ার পথে বহুমাত্রিক সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আন্তরিকভাবে সব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী। বনানীর অগ্নিকা-ের ঘটনায় শুধু ফায়ার ফাইটাররাই কাজ করেননি, সেখানে দমকল বাহিনী করেছে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীও কাজ করেছে।  তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় সরকার বিচলিত, চিন্তিত বা অস্বস্তিতেই নেই।

মাদ্রাসা বা কওমী শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের শিক্ষা নীতিমালার একেবারে বাইরে ছিলো । এই শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কোনো অধিকার বা আইন প্রয়োগ কোনো কিছুই সম্ভব হচ্ছিলো না। যে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি অঙ্গ হিসেবে নিয়ে দাওরায়ে হাদীসকে মূল্য দেয়া হয়েছে মাস্টার্স স্বীকৃতির মাধ্যমে। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়ন এবং তাকে নেপথ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থনের বিষয়ে কিছু বলবো না, তবে তদন্তে বেরিয়ে আসবে সোনাগাজী আওয়ামী লীগের সভাপতি মাদ্রাসা অধ্যক্ষের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক ছিলো।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত