প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিয়ে মূল্য গুনছে বাংলাদেশ, ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে ইউএনডিপি’র রিপোর্টে

কেএম নাহিদ : মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে বিপুল মূল্য গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্রনিকলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশটির কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বনজসম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। আগে জনবসতিহীন এইসব এলাকায় বন কেটে, সড়ক নির্মাণ করে উদ্বাস্তুদের জন্য শিবির নির্মাণ করা হয়। সাউথ এশিয়া মনিটর

ইউএনডিপি’র এক সমীক্ষা উল্লেখ করে, প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, উদ্বাস্তুদের কারণে ২৬,০০০ হেক্টরের বেশি বনভ‚মি উজাড় হয়ে গেছে। শিবির নির্মাণে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া প্রতি মাসে উদ্বাস্তুরা রান্নার কাজে ৬,৮০০ টন জ্বালানিকাঠ ব্যবহার করে, কারণ রান্নার জন্য তাদেরকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কিছু সরবরাহ করছে না আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ বন বিভাগের সর্বশেষ রিপোর্টে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। প্রধান বনরক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরি তার রিপোর্টে বলেন, বন উজাড় হওয়ার মতো সত্যিকারের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও পরিবেশগত অন্যান্য ক্ষতিও হয়েছে বিপুল। কার্বন নি:সরণ বেড়ে গেছে, অক্সিজেনের সরবরাহ কমেছে- যার প্রভাব পড়ছে প্রাণীক‚লের উপর। বন উজাড় ও পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। উখিয়ার একটি সূত্র উলে­খ করে বাংলাদেশ ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিবিরগুলো নির্মাণের পর থেকে এলাকাটি উষ্ণ হয়ে উঠেছে এবং বন কেটে ফেলা হচ্ছে।
প্রায় ১০ লাখ উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেয়ার কারণে পরিবেশের উপর সার্বিকভাবে কি প্রভাব পড়ছে তা গভীরভাবে মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এখন সমীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মিয়ানমার সীমান্তের কাছে শিবিরগুলোর ঘিঞ্জি পরিবেশে উদ্বাস্তুরা বাস করে। উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেবে বলে বলে মিয়ানমার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত