প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সন্যাসী হতে চেয়েছিলাম, ভাগ্যের ফেরে হলাম প্রধানমন্ত্রী, অক্ষয়কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানালেন মোদী

রাশিদ রিয়াজ : ভারতে লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফা শেষে চূড়ান্ত মুহূর্তে ভোটের ময়দানে চরম ব্যস্ততার মাঝে প্রধানমন্ত্রী এক বিশেষ সাক্ষাতকারে জানান, তিনি জীবনে প্রধানমন্ত্রী হবার সম্ভাবনা ভেবেও দেখেননি। বুধবার সকালে বলিউডের সুপারস্টার অক্ষয়কুমারকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে মোদী বলেন, তার ভাগ্যের চাকা অন্য মোড় নেওয়াতে তিনি আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অকপট মোদী জানালেন রামকৃষ্ণ মিশনের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

সাক্ষাতকারে মোদী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী তাকে প্রতিবছর বিশেষ উপহার পাঠান। বলেন, প্রতি বছর আমায় কুর্তা-মিষ্টি পাঠান মমতা দিদি। বিশেষধরনের মিষ্টি পাঠান বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। অক্ষয়কে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দেওয়া এ সাক্ষাতকারে মোদী বলেন, লোকে শুনলে চমকে যাবে। নির্বাচনী মওসুমে এটা আমার বলা উচিত না। তবে প্রতি বছর আমায় উপহার পাঠান মমতা দিদি। তিনি এখনও প্রতি বছর আমায় ২-১টা কুর্তা পাঠান, সঙ্গে মিষ্টিও। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর তাকে নতুন ধরনের মিষ্টি পাঠাতেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোদীর কথায়, একবার সেটা দেখেছিলেন মমতা দিদি। তারপর থেকে তিনি বছরে একবার বা দুবার করে আমায় মিষ্টি পাঠাতে শুরু করেন।

একদিন আগেই লোকসভা নির্বাচনী প্রচারে যেয়ে আসানসোলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানোর পরদিনই এ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিরোধীদের সঙ্গে তার সমম্পর্ক রক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীরা আমার খুব ভালো বন্ধু। অনেক সময় একসঙ্গে খেয়েওছি। ব্যক্তিগত জীবনের অনেক জানা অজানা কথা মোদী অকপটে অক্ষয়ের সঙ্গে সাক্ষাতকারে বলেছেন। এসময় তিনি মিটিমিটি হাসেন।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদের সঙ্গে আলাপ ও চা খাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, অনেকে এতে বিস্ময় বোধ করে কিভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন হয়ে আমি আজাদের মতো কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করার কথা জানিয়ে মোদী বলেন, একা খেলার চেয়ে সকলে মিলে খেলায় অংশ নিতে পছন্দ করি। একসময় প্রচুর সাঁতার কাটতাম। স্বাস্থ্য সচেতন হিসেবে শারীরিকভাবে ফিট থাকতে তিনি বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দেন বলে জানান। ভারতের জনগণ স্বচ্ছ ভারতকে তাদের মিশন হিসেবে গ্রহণ করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান।

ব্যক্তিগত ব্যয়ের জন্যে সরকারি খরচ না নেয়ার কথা জানালে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অক্ষয়কুমান জিজ্ঞেস করেন তিনি তার মায়ের কাছে টাকা পাঠান কি না। জবাবে মোদী বলেন, এখনো আমার মা আমাকে টাকা পাঠায়। তবে এর জন্যে কোনো প্রতিদান তিনি আশা করেন না। নিজেই নিজের টুইট সামালানোর কথা জানিয়ে মোদী বলেন, আমি বিষয়টি ‘এনজয়’ করি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাকে সাধারণ মানুষের মনমানসিকতা জানার সুযোগ করে দিয়েছে।

অনেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আরো বেশি ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও রয়েছেন। কিন্তু আমার অভ্যেসটিই এমন দিনে ৩ থেকে ৪ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। আমার শরীর এর চেয়ে বেশি ঘুমে সায় দেয় না। দীর্ঘদিন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়ে মোদী বলেন আমাকে এধরনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরো দৃঢ় হতে সাহায্য করেছে। যা অনেকের নেই। অবসরের পর কি করব এমন কথাও কোনো দিন চিন্তা করিনি। আমি সবসময় কাজ করতে ও অন্যের দায়িত্ব নিতে অভ্যস্ত। কারণ কিছু মিশন নিয়েই আমি আমার জীবনকে অতিবাহিত করছি। এমএলএ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের কোনো ব্যাংক এ্যাকউন্ট ছিলনা বলে জানান মোদী।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, জনগণকে মিথ্যা বলে চিরদিন প্রভাবিত করতে পারবেন না। তাই আমি শৃঙ্খলা অনুসরণ করে চলি। নিজের বা কারো জন্যে যদি সময়কে উৎসর্গ করতে চাই তাহলে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। আবার রসিকতা করতে পছন্দ করলেও তা আমার জন্যে করাও বেশ কঠিন কারণ খুব সহজেই এতে অনেকে ভুল বোঝেন। বন্ধুদের সঙ্গে রসিকতা করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা কখনো করি না। বিশেষ করে সেই সব মানুষের সঙ্গে যারা টিআরপি নিয়ে খুবই আগ্রহী।

পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন না থাকার কথা জানিয়ে মোদী বলেন, আমার মা ও স্ত্রী বিষয়টি আমাকে জিজ্ঞেস করে। কিন্তু তাদের জন্যে সময় বের করা কিংবা পারিবারিকভাবে জীবন যাপন করা আমার জন্যে খুবই কঠিন। তবে আমাকে নিয়ে এধরনের ইমেজ এত কঠিনভাবে তৈরি হয়ে আছে যা আদতে ভুল। তরুণ বয়সের কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, তখন জীবনে কি হতে চেয়েছিলাম এটা আমার জন্যে বলা খুবই কঠিন। আমি কখনো ভাবিনি রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু সম্পর্কে আমাকে বলতে হবে বা ভাল করে তা বলতে পারব। মানুষের সঙ্গে রাগ করার কোনো কারণ খুঁজে পেতাম না। এব্যাপারে আমি খুবই সচেতন ছিলাম। কখনো রাগান্তিত হইনি। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা মনে করে মোদী বলেন, ট্রেনে সৈনিকদের যাতায়াত দেখে তাদের মত আত্মত্যাগের জন্যে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত