প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি কী তাহলে সংসদের বাইরেই থাকবে?

বিভুরঞ্জন সরকার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আবারো সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্ত কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও উচ্চারিত হয়েছে। ‘কঠোর’ শাস্তি মানে নিশ্চয়ই জেল-জরিমানা নয়। সেটা করার ক্ষমতা বা এখতিয়ার রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নেই। দলের সিদ্ধান্ত কেউ না মানলে বড়জোর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। এখন দেখার বিষয় বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যপদ, নাকি দলের সদস্যপদকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাবান বলে মনে করেন। ২২ এপ্রিল স্থায়ী কমিটির এই সিদ্ধান্ত কার্যত সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি এবং ছয় এমপির শপথ গ্রহণ নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিলো তাকেই খারিজ করে দিলো।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি থেকে বিজয়ীরা হলেন ১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বগুড়া-৬), ২. মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৫), ৩. রেজাউল করিম বাবলু (বগুড়া-৭), ৪. জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩), ৫. আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২) এবং ৬. হারুন অর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)। ছয়জনের মধ্যে কেবল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই জাতীয় পর্যায়ের নেতা। তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং অন্যতম নীতিনির্ধারক। তিনি যে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না সেটা নিশ্চিত। কিন্তু অন্য পাঁচ এমপি কী দলের সিদ্ধান্ত মেনে এমপি পদ হারাবেন? এটা নিয়েই এখন চলছে জল্পনাকল্পনা। সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে বিএনপিতে দ্বন্দ্ব এখন চরমে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ‘আমি বড় নেতা নই। গ্রামে রুট লেবেলে পলিটিক্স করি। মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। তাই শপথ না নিলে আমাকে মারবে। শপথ না নিলে তারা আমাকে এলাকায় যেতে নিষেধ করেছে’। মির্জা ফখরুল ছাড়া অন্য চার এমপির বক্তব্য ও মনোভাবও প্রায় এক রকম বলেই জানা যায়। এখন এই এমপিরা যদি দলের সিদ্ধান্ত না মেনে শপথ গ্রহণ করেন এবং বিএনপি যদি তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে তাহলে কী বিএনপি রাজনৈতিকভাবে খুব লাভবান হবে? নাকি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম যেমন বলেছেন, আম ও ছালা দুটোই হারাবেÑসেটাই ঠিক হবে? সংসদে বিএনপি না থাকলে যে সংসদ থাকবে না তা তো নয়। সংসদ থাকবে অথচ তাতে বিএনপি থাকবে না, বিএনপির কোনো কথা বা সরকারের সমালোচনা সংসদের রেকর্ডে থাকবে না- এটা কী বিএনপিকে রাজনীতিতে বাড়তি কোনো সুবিধা দেবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন না যে, সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি ভালো করবে। বিএনপির স্বীকৃতি-অস্বীকৃতিতে সরকারের খুব একটা কিছু আসছে যাচ্ছে কী? সরকার তো সরকারের মতো চলছে। পাঁচ বছরই হয়তো চলবে। আগের মেয়াদে যেমন চলেছে। বিএনপি আগেরবার নির্বাচনে না গিয়ে যে ভুল করেছে, এবার সংসদে না গিয়ে প্রায় একই ধরনের ভুল করবে বলে অনেকে মনে করেন। মানুষ যদি প্রতিবাদী হতো তাহলে জনমতের বিরুদ্ধে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকতো বিএনপি। কিন্তু এখন বিএনপির এমপিই বলছেন, ‘শপথ না নিলে মানুষ মারবে বা এলাকায় যেতে দেবে না’। বিএনপির কী উচিত হবে মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে রুট লেভেলের নেতাদের এলাকা ছাড়া বা ‘উদ্বাস্তু’ করা? বিএনপি তো এমনিতেই এখন প্রায় ছন্নছাড়া অবস্থায় আছে। মাটি আঁকড়ে পড়ে থেকে দল গোছানোর চেষ্টা না করে ঢাকা-লন্ডন স্কাইপি রাজনীতি অব্যাহত রাখা বিএনপির গোড়া মজবুতে সহায়ক হবে বলে মনে হয় না।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত