প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চার্জশিটে সুপ্রভাত মালিক চালকসহ আসামি ৬

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ছয়জনকে আসামি করে চাঞ্চল্যকর এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হলো। এতে বাসমালিক গোপাল সরকার, চালক সিরাজুল ইসলাম, চালকের সহকারী ইব্রাহিম, কনডাক্টর ইয়াছিন, সুপ্রভাত পরিবহন রুটের সভাপতি আলাউদ্দিন ও রুটের এমডি আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। শেষোক্ত দু’জনের অপরাধ- অন্য রুটের বাস হওয়া সত্ত্বেও দিনে এক হাজার ৩০ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সুপ্রভাতের ওই বাসটিকে পুরান ঢাকা থেকে গাজীপুর রুটে চালানোর অনুমতি দিয়েছেন তারা।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আবরার হত্যার ঘটনায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখের আগে চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত থাকলেও ছোটখাটো কিছু বিষয় তখন বাকি ছিল। পুরো তদন্ত শেষ করে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে গতকাল এ চার্জশিট দেওয়া হয়।

মামলার বাদী নিহত আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, যারা যে কোনো ঘটনার নেপথ্যে থেকে অপরাধ করে তাদের শাস্তিও নিশ্চিত করা দরকার। এই ধরনের কষ্টকর মৃত্যুর পর যে কোনো বাবাই তার সন্তান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইবেন। আমিও সেটা চাই। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আবরারের ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০৪, ৩৩৮-ক, ১০৯ ও ২৭৯ ধারায় এক মামলায় দুটি চার্জশিট হয়েছে। দ বিধির ৩০৪ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন।

আবরারকে হত্যার ঘটনায় একটি চার্জশিটে বাস মালিক গোপাল সরকার, কনডাক্টর ইয়াছিন, সুপ্রভাত পরিবহন রুটের সভাপতি আলাউদ্দিন ও এমডি আশরাফকে আসামি করা হয়েছে। একই বাস আবরারকে চাপা দেওয়ার আগে একই দিনে আরেক কলেজছাত্রীকে চাপা দেয়। ওই ঘটনায় বাসের মালিক গোপাল সরকার, বাসের চালক সিরাজুল, সহকারী ইব্রাহিম, কনডাক্টর ইয়াছিন, সুপ্রভাত পরিবহন রুটের সভাপতি আলাউদ্দিন ও এমডি আশরাফকে আসামি করা হয়। এই মামলায় ৫ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সাক্ষী ও চারজন আসামি হিসেবে।

১৯ মার্চ রাজধানীর প্রগতি সরণির দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে প্রাণ যায় আবরার আহমেদ চৌধুরীর। ওই দুর্ঘটনার পর দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। সে সময় শিক্ষার্থীদের ১১টি দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- ৩০২ ধারার অধীনে চার্জশিট গঠন করে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে অপরাধীর বিচার; সুপ্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহনের সব বাসের রুট পারমিট বাতিল; ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, আবরারকে চাপা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কনডাক্টর ইয়াছিনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। যদিও ঘটনার সময় বাসে চালকের আসনে ছিল সে। ঘটনার দিন সুপ্রভাতের মূল চালক সিরাজুল ইসলাম শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকা পার হওয়ার সময় বাসটি মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। ওই দুর্ঘটনার পর বাসের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে চালক সিরাজুল ইসলামকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর রাস্তার মাঝে বন্ধ হয়ে থাকা বাসটি চালায় কনডাক্টর ইয়াছিন। বন্ধ হয়ে বাস যখন স্টার্ট নিচ্ছিল না, তখন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আরেকটি বাস ডেকে এনে সুপ্রভাত গাড়ির পেছন থেকে ধাক্কা দিতে অনুরোধ করেন।

কনডাক্টরকে বলা হয়, সুপ্রভাতের গাড়িটি মূল রাস্তা থেকে সরিয়ে সড়কের পাশে নিতে। কিন্তু বাসের কনডাক্টর ও হেলপার ভেবেছিল বাসটি রাস্তার পাশে নিলেই পুলিশ জব্দ করবে। এ ছাড়া বাস মালিক গোপাল ফোনে তাদের দ্রুত গাড়িটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরাতে নির্দেশ দেন। তাই কনডাক্টর ইয়াছিন গাড়িটি স্টার্ট নেওয়ার পরপরই রাস্তার পাশে না সরিয়ে দ্রুতগতিতে চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। পেছনে পেছনে পুলিশ কিছু দূর দৌড়ালেও আর গাড়ির নাগাল পাননি তারা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াছিন স্বীকার করেছে, বাস মালিকের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেই ক্ষিপ্ত জনতা ও পুলিশের কাছ থেকে রক্ষা পেতে সে গাড়িটি চালাচ্ছিল। কিছু দূর এসে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে তার গাড়ির নিচে চাপা পড়েন এক ছাত্র। পরে জানতে পারে ওই ছাত্রের নাম আবরার। দুর্ঘটনার পরপরই যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে থেকে পালিয়ে গিয়ে ইয়াছিন চাঁদপুরের শাহরাস্তির একটি ইটভাটায় চাকরি নেয়।

সূত্র : সমকাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত