প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশু জায়ানের কোরআন তেলোয়াতে মুগ্ধ হতেন প্রধানমন্ত্রী

আবুল বাশার নূরু : শ্রীলংকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি শিশু জায়ান চৌধুরীর ছিল সুমধুর কণ্ঠ। আত্বীয় পরিজনরা তাকে কাছে পেলেই কোরআনের বিশেষ কোনো সুরার তোলোয়াত শুনতে অনুরোধ জানাতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতি প্রিয় ছিল জায়ান। তিনি জায়ানকে কাছে পেলেই তোলোয়াত শুনতে চাইতেন। প্রধানমন্ত্রীকে একের পর এক সুরা তোলোয়াত করে শুনাতেন শিশু জায়ান।

শেখ সেলিমের ব্যক্তিগত সহকারী কৌশিক এই প্রতিবেদককে বলেন, সুমধুর সুরে কোরআন তোলোয়াত করতে পারায় জায়ানকে খুব আদর করতেন প্রধানমন্ত্রী। পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে জায়নকেই দেখলেই প্রধানমন্ত্রী বলতেন, নানু ভাই তুমি আমার কাছে আস। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ছুটে যেতেন জায়ান। তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করার পর প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কোনো সুরা তোলোয়াত করতে বলতেন জায়ানকে। উত্তরে জায়ান বলতেন, নানু আমার অজু নেই। অজু করে আসি। অজু করে এসে শেখ হাসিনাকে তোলোয়াত করে শোনাতেন জায়ান।

বনানী সানমুন স্কুলের শিক্ষার্থী জায়ান বিকেল হলেই ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়ত। বনানীর দুই নম্বর রোডের ৯নং বাড়ির সামনের জায়গাতে শোনা যেতো তার চিৎকারের শব্দ। বল আর ব্যাট নিয়ে ছিল তার ছোটাছুটি। সবচেয়ে প্রিয় তার ক্রিকেট খেলা। মাঝে মাঝে নানা শেখ সেলিমকে টেনে নিয়ে আসতো ক্রিকেট খেলতে। বাধ্য করতো বল করাতে। নাতির এ আবদারে খুব ভালোভাবেই সাড়া দিতেন শেখ সেলিম। মেতে উঠতেন ক্রিকেট খেলায়।

তাদের সঙ্গে কখনও যোগ দিতেন শেখ সেলিমের স্ত্রীও। এসবই এখন স্মৃতি।
গত বুধবারও (১৭ই এপ্রিল) এ বাড়ির আঙ্গিনায় খেলায় মেতেছিল জায়ান চৌধুরী। পরদিনই বৃহস্পতিবার দুই ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যান শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। তারা ওঠেন সেখানকার পাঁচ তারকা হোটেল সাংগ্রিলা’য়। রোববার সকালে সেখানে সকালের নাস্তা করতে জায়ানকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নামেন জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। আর হোটেল কক্ষে ছোট ছেলেকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন সোনিয়া। এ সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিহত হয় জায়ান। মারাত্মক আহত হন প্রিন্স।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত