প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমাকে যা শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা বলেছি : সেফাত উল্লাহ (অডিও)

নিউজ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন অবমাননাকারী ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ এবং অশ্লীল মন্তব্যকারী সেফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার একটি আবেদন জমা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বারের আইনজীবী মো. আলীম আল রাজী জীবন এ আবেদন করেছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে এক সাংবাদিকের কথা হয়ে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থানরত সেফাত উল্লাহর সঙ্গে। আমাদের সময় অনলাইন পাঠকদের জন্য তাদের কথোপকথন তুলে ধরা হলো-

সাংবাদিক : দাদা কেমন আছো? তোমার নামে নাকি মামলা হয়েছে?

সেফুদা : হ্যালো… হা হা হা। কেমন রেখেছো তুমি? আবার নাকি মাকি বলো কেন তুমি? তুমি তো সাংবাদিক, তুমি তাদের মধ্যে একজন। আবার ঢং করো কেন?

সাংবাদিক : এই বিষয়ে তোমার বক্তব্য কী? তোমার নামে যে মামলা হলো, বা তুমি যে…

সেফুদা : তুমি কী আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছো সাংবাদিক হিসেবে?

সাংবাদিক : না না, আমি তোমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করছি, তোমার অনুভূতি কী?

সেফুদা : অনেক মামলা হয়েছে, সারাজীবনে ১০/১২ বার জেল খেটেছি, ভিয়েনাতেও আমার জীবন ধ্বংস করেছে যারা, তারাই। ওরা আমার চিরশত্রু, ওরা এমন করবেই। ওরা আমাকে বলেছে; তোরে তো এখানে হত্যা করতে পারবো না, তোকে জেল খাটিয়ে খাটিয়ে, মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে শেষ করে দেবো। এটা তো ওদের আগের পরিকল্পনা।

সাংবাদিক : আচ্ছা, তুমি ফেসবুকে যে লাইভটা করেছো, আসলে সেটা তুমি কী কারণে করলে?

সেফুদা : শোনো, এখন যেহেতু মামলা চলছে তাই আমি এখন বলব না। আমাকে মারধর করেছে। ফেসবুকে দেখো না। …..(খারাপ শব্দ চয়ন) চোখে দেখো না? পালটকে দেখো না? পালটকের ইউজার দেখো, সেইম থিং (একই ঘটনা)।

সাংবাদিক : তোমার কী একটা ভিডিও ইন্টারভিউ নিতে পারবো, যদি তুমি চাও?

সেফুদা : নো নো নো নো, সরি। দেখো মামলা চলছে, ভিডিও ইন্টারভিউ দিবো না আমি। যেহেতু তুমি আমার ফেসবুকের বন্ধু। মিরপুর থেকে তোমার সাথে পরিচয় আমার। একটা আন্তরিকতা আছে, আমি তোমাকে…। কারণ, এর মধ্যে আবার অগণিত…। তুমি দেখো নাই শত শত সাংবাদিক আমার হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছে।

এ সময় কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেন সেফাত উল্লাহ। তার ভাষ্য, এ সকল গণমাধ্যমগুলো তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এখনও তাকে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা টেলিফোন করছে সাক্ষাৎকারের জন্য।

সময় টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছে জানিয়ে ওই সাংবাদিক তার সঙ্গে সেফাত উল্লাহকে কথা বলার প্রস্তাব করেন। উত্তরে তিনি বলেন, ‘কোনো ইন্টারভিউ দিবো না আমি।’

এ সময় এই সাংবাদিক আবারও বলেন, ‘তোমার সঙ্গে সাংবাদিক হিসেবে নয়, একজন ভিয়েনাবাসী হিসেবে তিনি কথা বলবেন।’

কিন্তু তাতেও রাজি হননি সেফুদা। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় সম্ভব না। তোমার সাথে পালটকে, মিরপুর থেকে পরিচয়, তাই কথা বললাম।’

প্রশ্নকাররী আবারও বলেন, পালটক, ম্যাসেঞ্জার, মিরপুরের পরিচয় বলেই তুমি আমার সঙ্গে কথা বললে। উত্তরে সেফুদা বলেন, ‘হ্যাঁ, পালটকের কারণেই তো তোমার সঙ্গে কথা, পরিচয়। ভিয়েনায় পরিচয় হলে তো তুমি আমাকে স্যার স্যার করতে করতে বুকে ব্যথা উঠে যেত।’

সাংবাদিক এ সময় নিজেদের মধ্যে পরিচয়ের কথাগুলো বলতে শুরু করেন। এতে কিছুটা রেগে যান সেফাতউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের মাধ্যমেই অনেকে কথা বলতে পারে। নাইলে যে সব বাঙালি আছে, তারা কি আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার যোগ্য? নেই, নো ওয়ান।’

সেফাত উল্লাহ আরও বলেন, ‘যদি জেলে ঢোকায়, জেলে দেখতে যাবে।’ এ সময় ওই প্রশ্নকারী ফোন রেখে দিতে চাইলে হাস্যরসে মেতে ওঠেন সেফুদা। তিনি বলেন, ‘আইসো, কিছু তরুণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে তাকে কেউ ফোন করেছিলেন কী না জানতে চাইলে সেফুদা বলেন, ‘না, বন্ধ তো। ছুটি না তিনদিন। আগামীতে হয়ত করতে পারে। আমার কাছে ল-ইয়ার রেডি। আমি রেডি। আমার কাছে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট রেডি। আমার প্রেস কনফারেন্স আছে। ওইদিন অগণিত মানুষ থাকবে ওখানে। ভিয়েনার অনেক বিগ বিগ গাইজ (বড় বড় ব্যক্তিবর্গ) থাকবে। আমি তো ছোটখাট মানুষ না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কারো ক্ষতি করিনি। আমি মিথ্যা বলিনি।’ এ সময় সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি স্বীকার করো, ‘তুমি ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বলেছো?’ উত্তরে সেফুদা বলেন, ‘বাজে কোনো কথা বলিনি। আমাকে যা শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে তা বলেছি। আমার মা আমার কাছে বড়।’

সেফুদা আবারও রেগে গিয়ে বলেন, ‘পং পং, অন্যদেরটা চোখে দেখো না? হু ইজ দিস ব্লাডি পং পং? (অশ্লীল গালাগাল …) তাদেরকে দেওয়ার মতো সময় আছে সেফাত উল্লাহর? যা হবে প্রমাণ হবে কোর্টে, আন্তর্জাতিক আদালতে। আমজনতার আদালতে দেখা হবে।’

বাংলাদেশের আদালতে পবিত্র আল কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকারী মন্তব্য ও মুহাম্মদ (সা.) এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ এবং অশ্লীল মন্তব্যের কারণে ভিয়েনায় অবস্থানরত সেফাত উল্লাহর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ও ৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত-সমালোচিত সেফুদাকে দেশে অথবা বিদেশে আইনের হাতে তুলে দিতে পারলে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।

 

সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

কোরআন অবমাননা প্রসঙ্গে সেফুদার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার…

কোরআন অবমাননা প্রসঙ্গে সেফুদার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার…

Posted by Amader Shomoy on Tuesday, April 23, 2019

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত