প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবির সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ

সুজন কৈরী, আসিফ হাসান কাজল: সেশনজট নিরসন, ক্রটিপূর্ণ ফল সংশোধন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করাসহ ৫ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে মানববন্ধন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা, যা নীলক্ষেত ও সাইন্সল্যাব পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এরপর সড়ক আটকে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা।

অবরোধের কারণে নীলক্ষেতসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজটের। তবে নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

নিউমার্কেট থানা পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এসে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের নানা সমস্যা তুলে ধরে ‘গণহারে আর ফেল নয়, যথাযথ রেজাল্ট চাই’, ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা নয়’, ‘গণহারে ফেল, ঢাবি তোমার খেল’, ‘বন্ধ করো অনাচার, সাত কলেজের আবদার’- এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৯ মাস সাত কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তারপর মানববন্ধন, অনশন কমসূচি সর্বশেষ সিদ্দিকের (তিতুমির কলেজের শিক্ষার্থী) চোঁখের বিনিময়ে ঢাবি আমাদের কার্যক্রম ধীরগতিতে শুরু করে। প্রায় ২ বছর ২ মাস অতিবাহিত হলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা কোনো সুফল ভোগ করতে পারছে না।

শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার খাতা ম‚ল্যায়নে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। সবশেষ পরীক্ষায় ঢাকা কলেজ বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২১৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব বিষয়ে পাশ করেছেন মাত্র ৩ জন। রসায়নে ৪৮ জনের মধ্যে ৪০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।

সরকারি বাংলা কলেজের সম্মান (বাংলা) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে, আমাদের সবকিছুই শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে। নিয়মিত পরীক্ষা নেয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে, সেশনজটে ফেলানো হবে না। কিন্তু আমাদের শুধু আশ্বাসই দিয়েছে, কোনো কিছুই বাস্তাবায়ন হয়নি। এ কারণে শুধু আমরা না, অনার্স-মাস্টার্স এমনকি যারা ডিগ্রিতে রয়েছেন তারাও শঙ্কায় পড়েছেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েও ফল পাচ্ছেন না। অনেকের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে না। ঢালাওভাবে ফেল করে দেয়া হচ্ছে। সামনে ফাইনাল ইয়ারের (সম্মান শেষ বর্ষ) ফল প্রকাশ করা হবে। আমরা শঙ্কায় রয়েছি যে, আমাদেরও একই কারণে ফেল করানো হবে। এসব বিষয়ে নিয়েই আমরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি।

এর আগে সোমবার সেশনজট, ত্রুটিযুক্ত ফলাফলসহ নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৫ দফা দাবি জানান।

দাবিগুলো হচ্ছে-

১. একসঙ্গে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একই বর্ষের সব বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ

২. গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতা পুনঃমূল্যায়ন

৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন

৪. প্রতিটি বিভাগে মাসে দু’দিন করে অধিভুক্ত সাত কলেজে মোট ১৪ দিন ঢাবি শিক্ষকদের ক্লাস নেয়া

৫. সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত