প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রানাপ্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই স্বনির্ভর, আবার অনেকেই আছেন ভবন ধসের আতঙ্কে

ফাতেমা ইসলাম : রানাপ্লাজা ভবন ধসের দুঃসহ স্মৃতিকে পাশ কাটিয়ে স্বনির্ভর হয়েছেন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক। তাদের কেউ এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী, আবার কেউ আছেন অন্য পেশায়। তবে এখনও অনেক শ্রমিক পুরোপুরি সুস্থ্য হননি। কিন্তু দেশি-বিদেশি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ব্যয় বহন করাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দু’মাস হলো রোজিনা আক্তার জন্ম দিয়েছেন নতুন প্রাণের। অথচ ৬ বছর আগে ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়া রোজিনা আক্তারের নিজের জীবন নিয়েই সংশয় ছিলো। শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচেছেন। শরীর আর মনের ক্ষত মেনে নিয়েই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।- ডিবিসি

রোজিনা আক্তার বলেন, ‘আমার পা এখনও অচল। চলাফেরা করা কষ্টকর। পরে সিআরপি থেকে বললো, তুমি প্রশিক্ষণ নাও, আমরা কিছু টাকা দিব, তুমি মুদির দোকান করে নিও। আমার আশা ব্যবসা যেহেতু করছি, এটি যেন আরও বড় করতে পারি।’ মৃত্যুকে ফিরিয়ে দিয়ে, নতুন করে জীবন শুরু করাদের তালিকায় আছেন সুজন মিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত পা নিয়েই উপার্জন করছেন। অটোরিকশা আর মুদি দোকানে ভর করে স্বনির্ভর হবার চেষ্টা করছেন।

সিআরপি নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সফিক-উল ইসলাম বলেন, ‘সেই ঘটনার পর কেউ বললো আমি গাভী পালন করবো। কেউ আবার বললো আমাকে ফটোকপি মেশিন দেন, আমি ব্যবসা করবো। এই রকম বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে আমরা প্রশিক্ষণ দেই।

তবে রানাপ্লাজা দুর্ঘটনায় আহতদের সবার গল্প এমন নয়। কেউ কেউ এখনও শরীর জুড়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন অসহ্য ব্যাথা, মস্তিষ্কে চিরস্থায়ী হয়ে আছে ভবন ধসের আতঙ্ক। একজন বলেন, ‘যেকোনও বিল্ডিং-এর সামনে গেলেই আমার ভয় লাগে। আমি তাকাই না। মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে মানুষের ভরে।’ কিন্তু সাহায্য হিসেবে পাওয়া অর্থ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তাই প্রায় আয়বিহীন মানুষগুলোর চিকিৎসা নেয়াটাই এখন বিলাসিতা।

এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় রানা প্লাজা দুর্ঘটনা। আর যারা বেঁচে ফিরেছিলেন তাদের প্রত্যেকেই হারিয়েছেন তাদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু বাকিদের প্রত্যেকেই যুদ্ধ করে যাচ্ছেন জীবনের দৈর্ঘটাকে আরেকটু বড় করতে। আর তাই তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে এই ছয় বছর পরও সরকারি ও বেসরকারি সহায়তাটা অনেক বেশি প্রয়োজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত