প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঠাকুরগাঁওয়ে গণহত্যা দিবস আজ, স্বামীহারা নারীদের দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে

সাদ্দাম হো‌সেন, ঠাকুরগাঁও : আজ ২৩ এপ্রিল, ঠাকুরগাঁও জাঠিভাঙ্গা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদাররা দুই হাজারের বেশি নিরিহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে । তাদের মধ্যে প্রায় ৩শ শহীদের স্ত্রী এখনো বেঁচে আছে নিদারুন কষ্টে । গণহত্যার এই দিনে স্বজন হারানোর বিচারের দাবি উঠেছে।

গণহত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী সেই সব বিধবার একজন অসোমনি। চোখে মুখে বয়সের ছাপ। কষ্ট আর অভাব যেন পিছু ছাড়ছে না তার। ভিটে মাটিও নেই। নেই আয়ের ব্যবস্থা। অন্যের জমিতে ঠাঁই নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন তিনি। এক ছেলে । পেশায় দিনমজুর । তার উপর ভরসা অসোমনির ।

গণহত্যার আজ ৪৯বছর। অসোমনি আজো ভুলতে পারেনি সেদিনের ভয়াল দৃশ্য । চোখের সামনে গুলি করে হত্যা করে স্বামী-দেবর, ভাইসহ পরিবারের পাঁচ জনকে। স্বামী-স্বজন হারানো এই নারীর একটাই দাবি,  সেই খুনিদের বিচার ।

শুধু অসোমনি নয় । গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের ৩ শতাধিক স্বামীহারা বেঁচে আছে খেয়ে না খেয়ে। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও অনেকের ভাগ্যে আজো জোটেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা। তাদের ক্ষোভ কেউ নেয় না তাদের খবর। স্বজন হারানো এই বৃদ্ধ নারীরা এখনো বেঁচে আছে বিচারের আশায়।

এই সব নারীদের পুনর্বাসন ও শহীদ পরিবার ঘোষণার দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার বদরু‌দ্দোজা। আর জেলা প্রশাসক ড.‌কেএম কামরুজ্জামান‌ তাদের সহযোগিতা ও চিকিৎসা সেবার আশ্বাস দেন।

১৯৭১ সালে বিভিন্ন স্থানে যখন হত্যাযজ্ঞ চলছিল। তখন আত্মরক্ষার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় অনেকেই। কিন্তু হানাদারদের হাত থেকে রক্ষার আশ্বাস দিয়ে স্থাণীয় রাজাকাররা জড়ো করে জাঠিভাঙ্গায়। জগন্নাথপুর, গড়েয়া, শুকানপুখুরীসহ চারটি ইউনিয়নের দুই হাজারেরও বেশি নিরিহ মানুষকে হত্যা করে পাক সেনারা। অসহায় এই স্বামীহারাদের পূর্নবাসনের আশ্বাস নয়, এ দেশিয় দোসর স্থানীয় রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক এ দাবি সবার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত