প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ষক মৌসুমী কুকুরেরা হঠাৎ করিয়া জাগিয়া উঠিয়াছে!

অসীম সাহা : গোপাল, কপাল, পুরোহিত, মোল্লা, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, শিক্ষক, তরুণ, যুবক, গুড়া, বুড়া যেন হঠাৎ করিয়া জাগিয়া উঠিয়াছে, মৌসুমী কুকুররা যেমন করিয়া জাগিয়া ওঠে, এইসব বর্বররাও তেমনি করিয়া জাগিয়া উঠিয়াছে। তাহাদের মা নাই, বোন নাই, বউ নাই, কন্যা নাই, খালা নাই, শাশুড়ি নাই, সকলেই তাদের ভোগের সামগ্রী। এমনকি ছোট ছোট কিশোরও তাহাদের কাছ হইতে নিরাপদ নহে। মন্দিরে হোক, মসজিদে হোক, পাঠশালায় হোক কিংবা মাদ্রাসায়, “সবার উপরে পুরুষাঙ্গ সত্য/তাহার উপরে নাই’ বলিয়া তাহারা পাগলা কুত্তার মতো ঝাঁপাইয়া পড়িতেছে। কেহ ধর্ষণ করিতেছে, কেহ ধর্ষণ করিয়া নারীদেহ আগুন দিয়া পোড়াইয়া দিতেছে, কেহ ধর্ষণ করিয়া নারীর গোপনাঙ্গ আগুনে ভস্মীভূত করিতেছে। অথচ সরকার নির্বিকার। এতো ধর্ষণ এতো হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ বোধহয় কখনো দেখেনি।

ঘরে-বাইরে নারীরা এখন কোথাও আর নিরাপদ নহে। প্রাইভেট বা সরকারি অফিসের বড়কর্তা, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিত কেউ কাসরঘণ্টা বাজাইয়া আবার কেহ-বা সজোরে আজান দিয়া নারীর ওপর উপগত হইতেছে। সেদিন দেখিলাম, এক বুইড়া ডাক্তার নিজের ক্লিনিকে নারীনার্সের সঙ্গে জোর করিয়া অসামাজিক কার্যকলাপ করিতেছে। ইদানীং দেখা যাইতেছে, যেন মাদ্রাসভিত্তিক ধর্ষণকেন্দ্র বাড়িয়া গিয়াছে। মাদ্রাসার ইমাম বা অন্য কেহ কিশোরী পাইলেই তাহাকে ধর্ষণ করিয়া আল্লার খাসবান্দা হিসাবে অশেষ নেকী হাসিল করিতেছেন। আমাদের বুজুর্গ ইমাম সাহেবদের কোথাও এর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলিতে দেখিতেছি না। অথচ সুযোগ পাইলেই ইহারা অন্যধর্মের ওপর নিয়মিত আক্রমণ করিয়া তাহাদের তুলোধুনা করিতেছেন। সংখালঘু নারী ধর্ষিতা হইলে তাহারা আনন্দিত হন। কিন্তু এখন তো শুধু সংখ্যালঘু নারী নহে, সংখ্যাগুরু কিশোরীদেরও তাহারা ছাড় দিতেছেন না, তাহাদের বিরুদ্ধে কেন ইমাম সাহেবরা একটি কথাও বলিতেছেন না? একস্থানে দেখিলাম, কিছু মৌলানা নসিহত করিয়াছেন, ধর্মীয় অনুশাসন না মানিবার কারণেই এইসব অনৈতিক কাজ চলিতেছে। তাহা হইলে প্রশ্ন জাগে, এতো বছর ধরিয়া এতো ওয়াজ-নসিহত করিয়া যাহা শিখাইলেন, তাহা কি তাহাদের কানে যায় নাই? যদি তাই হয়, তাহা হইলে বুঝিতে হইবে আপনারা ব্যর্থ।

আপনারা বুঝাইতে পারেন নাই, আসলে ধর্মীয় অনুশাসন সত্যিকার অর্থেই কী? আপনারা নারীদের অপমান করিয়াছেন, অন্যধর্মের লোকদের বিধর্মী বলিয়া গালিয়া দিয়াছেন কিন্তু নিজধর্মের এমনকি তথাকথিত ধর্মবাদীদের কিছুই শিখাইতে পারেন নাই। তাই বেহেশতের হুরীদের পাওয়ার আগেই তাহারা পৃথিবীর হুরীদের লইয়াই নর্তন-কুর্দন করিতেছেন। আর হতভাগ্য দেশবাসী ইহা বিস্ময়ে ও অসহায়ভাবে তাকাইয়া দেখিতে বাধ্য হইতেছেন। না দেখিয়া উপায় কী? ইহার সঙ্গে জড়িত আছেন ক্ষমতাসীনদের কেউকেটারাও। সোনাগাজীর নুসরাতকে ধর্ষণ তো করা হইলোই, তাহার গায়ে কেরোসিন ঢালিয়া পোড়াইয়াও মারা হইলো এবং ধর্ষক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কাছ হইতে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া সোনাগাজীর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের প্ররোচনায় তথাকথিত ধর্ষকের মুক্তি চাহিয়া বোরকাধারী নারীরা মিছিল করিলো। এরচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা আর কী হইতে পারে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ না করিলে আওয়ামী নেতারা ঠিকই বিষয়টাকে ভ্যানিশ করিয়া দিয়া নিজেরা ধোয়া তুলসীপাতা হইয়া হাত মুছিয়া ফেলিয়া এক একজন পবিত্র সন্ন্্যাসী হইয়া যাইতেন।

আশংকার কথা এই, আলামত দেখিয়া মনে হইতেছে, আগুন এবং ধর্ষণসন্ত্রাস ক্রমশ বাড়িতেই থাকিবে। আমাদের পবিত্র সংবিধানে সবধর্মের সমান অধিকারের কথা লেখা থাকিলেও এই রাষ্ট্র যে ক্রমশ একটি একক ধর্মবাদী রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকিয়া পড়িতেছে, মন্ত্রী-মিনিস্টার, নেতা-পাতিনেতাদের কথা শুনিয়া তাহাই মনে হইতেছে। তাহা না হইলে যে শফী হুজুর কিছু হইলেই বড় বড় বয়ান দেন, তাহার মুখও এখন বোবা হইয়া গেলো? নাকি তিনি আল্লার খাসবান্দা হিশাবে এইসব ধর্ষকের বেহেশতে যাওয়ার পথ নিজেই তৈরি করিয়া রাখিতেছেন? এমন এক বুজর্গ হুজুরের পা ছুঁইয়া দোয়া না নিলে যাহাদের চলে না, তাহারা যে হুজুরদের নীরবতাকে বাহ্বা দিবেন, তাহা বুঝিতে কাহারই অসুবিধা হইবার কথা নহে।

যেহেতু ধরিয়া নিতে পারি, দুএকটি ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো ধর্ষণ কিংবা হত্যাকা-ের বিচার হইবে না, তাই সকলেই আপনার মা, বোন, কন্যা, বধূ প্রমুখকে ধর্ষক মৌলানা-মৌলভী-পুরোহিতদের হাতে ভেট হিশেবে তুলিয়া দিবার জন্য ঘরে-বাইরে আগে হইতেই অপেক্ষা করিতে থাকুন। বাংলাদেশে ইহা ছাড়া অন্য পরিণামের কথা চিন্তা করিয়া বংশ বিস্তার করিলে আপনারা ভুল করিবেন।
লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক. দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত