প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুনামগঞ্জে ধানকাটা উৎসব শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগ

রুহুল আমিন : হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় এবার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন না। অথচ যে কোনো সময় সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসতে পারে পাহাড়ি ঢল। সোনালি ধানের পাশাপাশি তলিয়ে যেতে পারে কৃষকের স্বপ্নও।

এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ধান কাটায় উৎসাহ দিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত রবিবার জেলার ১১ উপজেলায় একযোগে ধানকাটা উৎসব পালন করা হয়েছে। এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. বশির আহম্মদ সরকার জানান, ইতোমধ্যে জেলার দুটি বালু-পাথর মহাল বন্ধ করে দিয়ে সব শ্রমিককে ধান কাটায় আনা হয়েছে। এখন আর শ্রমিক সংকট থাকবে না। শ্রমিকদের উৎসাহ জোগানোর জন্যই এই উৎসব।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে একটি জমিতে ধান কর্তনের মধ্য দিয়ে ধানকাটা উৎসবের সূচনা হয়। একই সময়ে প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে হাওরে ধানকাটা উৎসব পালন করা হয়। কৃষক ও শ্রমিকদের উদ্ধর্ত করতেই প্রশাসন প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক এই কর্মস‚চির আয়োজন করে। স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন। পরনে হলুদ গেঞ্জি ও মাথায় গামছা নিয়ে কাস্তে হাতে কৃষকের মতো দল নিয়ে হাওরে নামেন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উৎসব ঘিরে নতুন চালের পিঠা খাওয়ার আয়োজনও ছিল। ভোরের কাগজ।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর পাড়ের কৃষক জুয়েল মিয়া জানান, এতদিন শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারেনি। তবে এখন অতিরিক্ত শ্রমিক আসায় ধানকাটায় আর কোনো সমস্যা হবে না বলে আশাবাদী আমরা। তাহিরপুর উপজেলার শশীর হাওরের কৃষক আব্দুল আওয়াল প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যেসব শ্রমিকরা আগে ধানকাটায় আসত না এ বছর প্রশাসনের এই উদ্যোগ শ্রমিকদের মাঝে অনেকটা উৎসাহ জোগাবে। তিনি অনেকটা স্বস্তি নিয়েই বলেন, আশা করছি এবার আর ধান কাটার শ্রমিকের সমস্যা হবে না।

হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, এবারই প্রথম সুনামগঞ্জে ধানকাটা উৎসব হচ্ছে। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা অনেক আনন্দে ধান কাটছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বৈশাখ মাসে হাওরবাসীকে আনন্দ দিতে এবং শ্রমিকদের ধান কাটায় উৎসাহী করে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন। যা এক প্রকার নবান্ন উৎসবের মতোই। এই আয়োজনের মাধ্যমে জেলার অন্যান্য শ্রমিক ও পার্শবর্তী জেলার শ্রমিকরাও ধান কাটতে সুনামগঞ্জে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ধানকাটা উৎসবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক ভুইয়া, নির্বাহী কর্মকর্তা খোশি মোহন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমির বিশ্বাসসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত