প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘হিজড়া’ পরিচয়ে ভোটার, মা-বাবার সম্পত্তির ভাগ কীভাবে?

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো নারী ও পুরুষের পাশাপাশি ‘হিজড়া’ পরিচয়ে ভোটার হওয়ার সুবিধা রেখেছে। এতদিন হিজড়াদের নারী বা পুরুষ পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হতে হতো।

তবে, হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হলে, তারা মা-বাবার সম্পত্তির অংশ কিভাবে বা কতটুকু পাবেন তা নিয়ে রয়েছে গেছে ধোঁয়াশা।

এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন জানান, এবার হালনাগাদের সময় হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হতে পারবেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকরা। ভোটার নিবন্ধন ফরমে ‘লিঙ্গ পরিচয়’ অপশনে নারী, পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে যারা নারী বা পুরুষ হিসেবে ভোটার হয়েছেন, তারা তথ্য পরিবর্তন করে হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হতে চাইলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সনদ লাগবে।

এছাড়া হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হলে মা-বাবার সম্পত্তি পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) আনিস মাহমুদ বলেন, হিজড়া হিসেবে ভোটার হলে তারা সম্পত্তি পাবে কি পাবে না, এটা আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, হিজড়াদের সাংবিধানিক ভাবেই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আমাদের সংবিধানতো অনেক বেশি উদার। অবশ্যই তারা মা-বাবার সম্পত্তি পাবে। এটাই তো আইন। পাবে না কেউ বলবে না।

আমাদের দেশে প্রচলিত ফরায়েজি আইন অনুযায়ী ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়। হিজড়াদের হিসেবে আমি বলতে পারবো না। তবে জন্মের পর পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে অথবা সিটি করপোরেশনে ছেলে বা মেয়ে হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তিনি সম্পত্তি পাবেন যোগ করেন তিনি।

হিজড়ারা যদি হিজড়া হিসেবে ভোটার হন সেক্ষেত্রে মা-বাবার সম্পত্তি প্রাপ্তিতে কোনো জটিলতা হবে কি না? জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সেতো তার বাবার নাম, মাতার নাম লিখবে। সুতরাং হিজড়া হলে সেতো সন্তান, সন্তান হিসেবে উত্তরাধিকার যেগুলো পাবে বাংলাদেশের যে বিদ্যমান আইন আছে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

ছেলে ও মেয়েরা সম্পত্তি কতটুকু পাবে তা নির্ধারণ করা আছে। হিজড়ারা সম্পত্তির অংশ পাবে বা ভাগাভাগিটা কিভাবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হিন্দু আইন বা ফরায়েজি আইন যখন প্রণয়ন করা হয়, তখন কিন্তু হিজড়ারা স্বীকৃতি পায়নি। এক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি নিশ্চয় বিবেচনায় নেবে।

এ বিষয়ে আপনাদের কোনো সুপারিশ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হিজড়াদেরকে ভোটার করার বিষয়টি আপনারাও আমাদেরকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। এটাও একটা ভালো পয়েন্ট। আমরা দেখি-আইন মন্ত্রণালয়ে একটা প্রস্তাব দিতে পারি।

২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় হিজড়াদের স্বীকৃতি বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. মুখলেছুর রহমান খান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে হিজড়া লিঙ্গ (hijra) হিসেবে চিহ্নিত করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিল।’

এর আগে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা নিবন্ধনের খসড়া ফরমে হিজড়া লিঙ্গটি যোগ করেছিলেন। কিন্তু ভোটার তালিকা আইন ও বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায়, সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেননি তারা। এতদিন কেউ ভোটার হতে চাইলে তাকে নারী বা পুরুষ লিঙ্গ বেছে নিতে হতো। এখন থেকে কেউ চাইলে হিজড়া পরিচয়েই ভোটার হতে পারবেন।
সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত