প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীর লেখালেখি, দুই জনের জবানিতে

দেবদুলাল মুন্না : তিনি বললেন, ‘আমার যখন বয়স চল্লিশ তখন সে আসে আমার জীবনে। তার বয়স তখন তেইশ। খুব ভালো গিটার বাজাতো। আমারই মেয়েকে বাসায় এসে পড়াতো। তো তার সঙ্গে রিলেশনে জড়িয়ে পড়ি। এই রিলেশনকে আমি অবৈধ বলবো না। কারণ আমার হাজবেন্ড বেঁচে নেই। আমার ফিজিক্যাল নিড ছিলো। আর ছেলেটি বয়সের তুলনায় ছিলো মানসিকভাবে কমিউনিকেট করার মতো। আমাদের রিলেশন হওয়ার পর ছেলেটি বলেছিলো বিয়ের চেয়ে একসঙ্গে থাকা অনেক ভালো। রুচিশীল। বিয়ে তো সেক্স করারই একটি লাইসেন্সধারী ইনস্টিটিউট। তারপর আমরা নিবিড়ভাবে মিলিত হতাম। বছর দশেক চললো আমাদের রিলেশন।

তারপর আমার শরীরও বুড়িয়ে আসছিলো। ছেলেটির ডাকে সেরকম সাড়া দিতে পারতাম না। ফলে ছেলেটি আরেকটি মেয়ের সঙ্গে রিলেশনে জড়িয়ে পড়ার আগে আমাকে জানালো। আমি তাদের নিয়ে এক সন্ধ্যায় এক রেস্তোরাঁয় ভালো খাবারের পার্টি দিলাম। মোমবাতির নীল আলো টেবিলে। আমি এক পাশে। অপর পাশে তারা দু’জন পাশাপাশি। আমার সামনেই মেয়েটি ছেলেটিকে চুমু খেলো। আমি করতালি দিলাম। ছেলেটির হাত থেকে চামচ পড়ে গেলো। আমি তুলে ওয়েটারকে ধুয়ে দিতে বললাম। এরপর তো বুড়িয়েই গেলাম। ওই রিলেশনটি ছিলো আমার জীবনে সেরা। ছেলেটি এখনও বিয়ে করেনি এটুকু জানি। তবে এতোদিনে আরো রিলেশনে জড়ানোরই কথা। তবে আমার আর তার কোনো বান্ধবীকে খাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।’ ( ভারতীয় লেখক অমৃতা প্রীতমের জবানী)। তিনি নবনীতা সেনের বয়সে বড় ছিলেন।

আর এবার আসুন দেখি নবনীতা দেব সেন কী বলেন … ‘বিশ-বাইশ বছর আগের কথা। সমরেশ বসু একটি শারদীয় সংখ্যায় লিখলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষের সঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর এক মধুর প্রেমের কাহিনী। সেটা পড়ে আমার মনে হলো বাহ্,পুরুষ মানুষ বলে বুঝি যা খুশি তাই লিখতে পারা যায়? আমিও তাহলে লিখি না কেন? ফারাকটা একটু কমিয়ে চল্লিশোর্ধ্ব এক জন মেয়ের সঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণির কোনও ছাত্রের প্রেমকথা! দেখি, পাঠক কী বলে। কিন্তু খাবার টেবিলে কথাটা পাড়তেই ঘরের মধ্যে বজ্রপাত হলো। ‘সে কী! তুই কী বলছিস কী?

তোর কী মাথা খারাপ হলো?’ মা হতভম্ব হয়ে বলে উঠলেন, ‘ওই সব লিখবি, ছাপাবি, তার পরেও মা-বাপেরা তোদের কাছে কলেজে ছেলেপুলেদের পড়তে পাঠাবে ভেবেছিস? তোকে তো ডাইনি মনে করবে!’ মেয়ে তো দেখি প্রায় কেঁদেই ফেলেছে তার শিক্ষিকারা, তার বন্ধুরা সবাই ওর মাকে কী মনে করবে? সে আর মুখই তো দেখাতে পারবে না! ‘না মা, তুমি ওসব কক্ষণও লিখবে না।’ আমি তো ঘরের ভেতরের প্রতিক্রিয়া দেখেই হতবাক। মা না হয়ে যদি বাবা হতুম, তাহলে কিন্তু মেয়ের শিক্ষক, সতীর্থ, আমার ছাত্রছাত্রীরা কেউই কিছু মনে করতো না। বাবারা মুক্ত প্রাণী। তাদের কলমও মুক্ত। তারা যা প্রাণ চায়, লিখতে পারেন। আমি মেয়ে, আমি পারি না। যেমন : যতো গরমই হোক, বাবারা দিব্যি খালি গায়ে পাখা চালিয়ে ঘুমোতে পারেন। আমারা বেচারি মায়েরা পারি না!’ -নবনীতা দেব সেন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত