প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিস্ফোরণের পর হাহাকার শ্রীলঙ্কায়, জরুরি অবস্থা জারি, ধস পর্যটন ব্যবসায়

রাশিদ রিয়াজ : ছ’ঘণ্টার ব্যবধানে আটটি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। প্রাণহানি হয়েছে কমপক্ষে ১৫৯ জনের। এই ঘটনার পর থেকে চিন্তাার ভাঁজ পর্যটন সংস্থার দেশটির কর্মকর্তাদের কপালে। অনেকে বলছেন দেশটি অর্থনৈতিকভাবে অন্তত ৫ বছর পিছিয়ে গেছে। স্বয়ং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এধরনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ তার দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত হানলো। গ্রীষ্মের ভরা মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ হওয়ায় আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় পর্যটন সংস্থার কর্মকর্তারা কেনই বা করবেন না। বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩৫ জন বিদেশি নাগরিক মারা গেছেন। স্থানীয় মিডিয়া বলছে এ সংখ্যা ৪০’এর বেশি। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি একজন শিশুও রয়েছে। দেশটিতে ইতোমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এদের মধ্যে ডেনমার্কের কোটিপতি ব্যবসায়ী এ্যান্ডার্স হোলচ পোভলসেন তার তিনটি শিশু সন্তানকেই হারিয়েছেন। ডেনমার্কে তার কাপড়ের প্রতিষ্ঠান আসস সবচেয়ে বেশি বিক্রেতা কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি জমির মালিক এ্যান্ডার্স। জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানির জালান্দোর অংশীদার তিনি। তিনদিন আগে এ্যান্ডার্স’এর মেয়ে আলমা ইনস্টাগ্রামে শ্রীলঙ্কার ওই হোটেলের পুলসাইটে তার ভাইবোন এ্যাট্রিড, এ্যাগনেস ও আলফ্রেডকে নিয়ে তোলা ছবি পোস্ট করেছিলেন। আর এখন তার সবকিছুই অতীত স্মৃতি।

প্রতি বছর ভারত থেকে অনেকে বেড়াতে যান দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কায়। পরিসংখ্যান বলছে ২০১৮ সালে কমপক্ষে ২ লাখ ৩০ হাজার ভারতীয়র গন্তব্য ছিল সমুদ্রে ঘেরা এই দেশটিতে। বছরে মে-র শুরু থেকেই সাধারণত শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে যাওয়ার হিড়িক লেগে যায় বিদেশি পর্যটকদের। পর্যটকদের আগাম বুকিং মনে আশা জুগিয়েছিল দেশটির পর্যটন সংস্থাগুলির। ২০১৮-র পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে যাবে বলেই আশা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু রোববার সকালে সেই আশায় জল ঢেলেছে সন্ত্রাসবাদীরা। এদিন সকালে ইস্টারের প্রার্থনা চলাকালীন প্রচ- সিরিজ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তিনটি চার্চ এবং তিনটি হোটেল। একযোগে একের পর এক। তাতেই প্রাণ হারান অন্তত ২৯০ জন। এখানেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের শেষ নয়। ঠিক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দু’টি জায়গা। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরানোর বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির সরকার।

বিস্ফোরণের পর দেশটির পর্যটন সংস্থার কর্মকর্তাদের একজন শরৎ ধল বলেন,‘‘গ্রীষ্মে§ বেড়াতে আসার জন্য অনেকেই শ্রীলঙ্কাকে বেছে নেন। কিন্তু এই বিস্ফোরণের জেরে পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিল হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতিও হবে আমাদের। আরেক পর্যটন সংস্থার আধিকারিক বীণা পাটিলের গলাতেও একই আক্ষেপের সুর। আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনিও। তবে কিছু কিছু পর্যটন সংস্থার কর্মকর্তারা অবশ্য আপাতত শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কাজেই বেশি ব্যস্ত। বিখ্যাত পর্যটন সংস্থার কক্স অ্যান্ড কিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা করণ আনন্দ বলেন,‘আমাদের সমস্ত পর্যটক নিরাপদে রয়েছেন। তবে আকস্মিকতায় ভয় পেয়ে গিয়েছেন তারা। পর্যটকদের দ্রুত গন্তব্যে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পর্যটকদেরও অবশ্য একই বক্তব্য। এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আর সেদেশে যাওয়ার কথা ভাবতেও চাইছেন না অনেকে। যারা আপাতত শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন, তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। কতক্ষণে বাড়ি ফিরতে পারবেন, অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ভীত সন্ত্রস্তরা। সংবাদ সারাদিন/ দি সান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত