প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পুলিশ সতর্ক থাকলে নুসরাতের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতো না’ (ভিডিও)

জিয়ারুল হক : ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডে পুলিশ প্রথম থেকে সতর্ক থাকলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না বলে মত এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে। রবিবার, জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে নিয়ে আলোচনা হয়।

এতে বলা হয়, শ্লীলতাহানী ও যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে প্রাণহানি মোকাবিলা করা যায়। সেই সঙ্গে, এ ধরনের ঘটনায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনো প্রশ্নের মুখে না পড়ে সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন সংসদীয় কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টির সাংসদ পীর ফজলুর রহমান। বৈঠকে তিনি বলেন, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকলে অনেক ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেয়া যায়। নুসরাত যখন সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যায়, তখন যদি তিনি গুরুত্বসহকারে বিষয়টি বিবেচনা করতেন এবং নুসরাতের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা না করতেন তাহলে এই ঘটনা হয়ত ঘটত না। সেই সঙ্গে, সবক্ষেত্রেই পুলিশ যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে সংসদীয় কমিটির সভায়।

এরপর সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি যে কোনো ঘটনাকে গুরুত্ব দেয়া যায় তাহলে প্রাণহানি আটকানো যেতে পারে।

এদিকে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি রুহুল আমিন বলেন, হত্যার আগে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি, নেয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপও।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলে। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলা প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় গেল ৬ই এপ্রিল মিথ্যা বলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পাঁচদিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু ঘটে।

অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলার পর নুসরাতের জবানবন্দি নিয়েছিলেন সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। ওই জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে নুসরাতের সঙ্গে ওসির আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অপরাধে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। পরবর্তীতে তাকে, সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, হাবিবুর রহমান, সামছুল দুদু, ফরিদুল হক খান, নূর মোহাম্মদ এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর অংশ নেন।

ওসির কক্ষে নুসরাতের কান্নার ভিডিও

ওসির কক্ষে নুসরাতের কান্নার ভিডিওওসির কক্ষে নুসরাতের একটি কান্নার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে ওই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় ওসিসহ কয়েকজন তাকে জেরা করেন।পুরোটা সময় নুসরাতকে কান্না করতে দেখা যায়। ভিডিও করার সময় নুসরাত অঝোরে কাঁদছিলেন এবং তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে গত ৯ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভিডিওটি এখানে দেয়া হলো।

Gepostet von হাটহাজারী বার্তা am Donnerstag, 11. April 2019

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ