প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ সেলিমের জামাতা শ্রীলঙ্কায় আহত, নাতি নিখোঁজ

নিউজ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের জামাতা আহত হয়েছেন এবং নাতি নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রুনেই সফররত প্রধানমন্ত্রী রোববার দ্য এম্পায়ার হোটেল অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের বলরুমে প্রবাসীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়ে সবার দোয়া চান।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাংসদ শেখ সেলিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই। সেলিমের মেয়ে শেখ সোনিয়া তার স্বামী মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও দুই ছেলেকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় গেছেন বেড়াতে। তারা উঠেছিলেন কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেল শাংরি-লায়।

রোববার ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে তিনটি গির্জা ও কয়েকটি হোটেলে বোমা হামলা হয়। এর মধ্যে হোটেল শাংরি-লার রেস্তোরাঁয় সকালের নাস্তার ভিড়ের সময়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শেখ সেলিমের মেয়ে, জামাই ও দুই বাচ্চা নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ছিল। সেখানে মেয়ের জামাই প্রিন্স … ছেলে সাড়ে আট বছর… ওরাও গিয়েছিল.. রেস্টুরেন্টে, সেখানে বোমা পড়েছে।

“জামাই আহত হাসপাতালে, বাচ্চাটার এখনও কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না যে সে কোথায় আছে। আপানারা একটু দোয়া করেন, যেন ওকে পাই। “

সকালে ও দুপুরে দুই দফায় কলম্বো ও আশপাশে আট জায়গায় এই হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে; আহত হয়েছে সাড়ে চারশ মানুষ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাদের নাম-পরিচয় তিনি সে সময় প্রকাশ করেননি।

ব্রুনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কায় হামলার ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে। প্রায় আটটা জায়গায় সেখানে বোমা হামলা হয়েছে। অনেক মানুষ মারা গেছে, অনেকে আহত…। আমরা এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা ঘোষণাই শুধু দিইনি, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে সব সময় সতর্ক রেখেছি। এ ধরনের কোনো… যদি আমরা বের করতে পারি, সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বাংলাদেশের মাটিতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিবাদ, মাদকাসক্ত…. এর কোনো স্থান হবে না।”

শ্রীলঙ্কায় হামলার ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে গত মাসে নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চে দুটি মসজিদে হামলার কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন নিউ জিল্যান্ডে… সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এলাকা, ওখানে কেউ চিন্তাই করতে পারে নাই কখনও এরকম ঘটনা ঘটবে। সেখানে মসজিদের ভেতরে নামজ পড়া অবস্থায় প্রায় ৫৫ জনকে… নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

“এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড… আসলে সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। এদের কোনো ধর্ম, নাই, এদের কোনো জাত নাই, এদের কোনো দেশ নাই।… এরা মানুষের জীবনকে নষ্ট করে, মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।”

বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় পেট্রোল বোমার সন্ত্রাসের প্রসঙ্গও এ সময় মনে করিয়ে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

“২০১৩ সালে, ৩০১৪ সালে, ২০১৫ সালে এক টানা তিন মাস আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে কত মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।… এই ধরনের জঘণ্য কাজ যেন আর বাংলাদেশে না ঘটে।”

ওই কারণেই গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অগ্নি সন্ত্রাসীদের দেশের মানুষ গ্রহণই করেনি। অবশ্য ভোট পাবে কি করে, তারা তো নির্বাচন করেনি, নমিনেশন বাণিজ্য করেছে। ৩০০ সিটে ৬৪২ জনকে নমিনেশন দিলে জিতবে কি করে বলেন?” সূত্র: বিডি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত