প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতি হওয়াতে স্বল্প সুদে বৈদেশিক ঋণ আর না

রমজান আলী: দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই ভালো হচ্ছে। বাড়ছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের মাথাপিছু আয়। এছাড়া চূড়ান্তভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার পথে রয়েছে দেশ। এ অবস্থায় বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে নেমে আসছে সুদের খক্ষ। অর্থাৎ অবস্থা ভালো হওয়ার সুবাদে স্বল্প সুদ বা বিনা সুদে ঋণ পাওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে। বিশ্বব্যাংক ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সুদের হার বাড়িয়েছে। নতুন করে সুদের হার বাড়াতে চাচ্ছে চীন।

সূত্র জানায়, চীন সাধারণত দু’ভাবে ঋণ দেয়। এর একটি হল গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন (জিসিএল), অন্যটি প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি)। উভয় ঋণের সুদহার বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ব্যবস্থাপনা ফি এবং শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফিও রয়েছে। এ বছর ঋণচুক্তির জন্য নির্ধারিত দুই প্রকল্পে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে সুদ দাবি করে চীন। তবে ইআরডির সঙ্গে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ৩ শতাংশের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যেই ইআরডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। প্রকল্প দুটি হচ্ছে- ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স¤প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং স্ট্রেংদেনিং পাওয়ার সিস্টেম অব পিজিসিবি প্রকল্প। সম্প্রতি ‘ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পটির জন্য ঋণের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে চীনের সঙ্গে। এ প্রকল্পেও ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ সুদ দাবি করেছে চীন। তবে এটি এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায় থাকায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুদের হার কমানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ঋণের কঠিন শর্ত ও উচ্চ সুদ কার্যকর করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি সুদের হার শূন্য শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কার্যকর করেছে। এর সঙ্গে আগে থেকে অব্যাহত থাকা সার্ভিস চার্জ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলবৎ রয়েছে।

তাই সব মিলিয়ে এখন সুদের হার দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশ। এছাড়া ঋণ পরিশোধের সময়ও কমিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ আগে আইডিএ তহবিল থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধে সময় পাওয়া যেত ৩৮ বছর। এখন ৮ বছর কমিয়ে ৩০ বছর করা হয়েছে। অন্যদিকে আগে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ড (রেয়াতকাল) ছিল। কিন্তু এখন ১ বছর কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে।

এছাড়া কম সুদে ঋণ পাওয়ার আর একটি অন্যতম উৎস ছিল জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সংস্থাটির কাছ থেকে বার্ষিক শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সুদে ঋণ মিলত। সেই সঙ্গে ১০ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি সময়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন সুদ হার বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ করেছে জাইকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত