প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকার যে কোন আসামিকেই প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে

নূর মোহাম্মদ : দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। অনেকে প্যারোল নিয়ে নানা বিভ্রান্তিতে পড়েন। আইনজ্ঞরা জানান প্যারোল আদালত নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায়ের বিষয়। সরকার চাইলে যে কোন মেয়াদের জন্য যে কোন পর্যায়ের আসামিকেই মুক্তি দিতে পারেন। প্যারোলের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ১ জুন একটি নীতিমালা প্রণীত হয়। যাতে বলা হয়েছে, ভিআইপি বা অন্যান্য সকল শ্রেণীর কয়েদী বা হাজতি বন্দীদের নিকট আত্মীয় যেমন -বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুাড়, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান এবং আপন ভাই-বোন মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভিআইপি বা অন্যান্য সকল শ্রেণীর কয়েদী বা হাজতি বন্দীদের নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুর কারণ ছাড়াও কোন আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুক্তি দেয়ার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া যাবে। তবে উভয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দিবেন। সেক্ষেত্রে বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরাধীনে রাখতে হবে।

সময় সীমার বিষয়ে বলা হয়েছে, মুক্তির সময়সীমা কোন অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার অধিক হবে না তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন। কোন বন্দী জেলার কোন কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার, সাব জেলে আটক থাকলে ওই জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে মঞ্জুরকারীকর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। অপরদিকে কোনো বন্দি নিজ জেলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার, সাব জেলে আটক না থেকে অন্য জেলায় অবস্থিত কোন কেন্দ্রীয়, জেলা, বিশেষ কারাগার, সাব জেলে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরুত্ব বিবেচনা করে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর কিংবা নামঞ্জুরের ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে বুঝে নেবার পর অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করবেন। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, কোন কাজের জন্য আসামির উপস্থিতি একান্তই প্রয়োজন হলে সরকার তার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারেন। এটি নির্ভর করে আবেদনকারী এবং সরকারের উপর। আর চিকিৎসার জন্যতো সব দেশেই ব্যবস্থা আছে। এর আগে এক এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করতে গিয়েছিলেন। তবে প্যারোল অবশ্যই শর্ত সাপেক্ষ বিষয় বলে জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, প্যারোল একটি প্রশাসনিক বিষয়। এটা আইনের আওতায় হয় না। সাজা হওয়ার আগে কিংবা পরে যে কোন আসামিকেই প্যারোল দেওয়া যায়। প্যারোলের কিছু শর্ত আছে। সে শর্ত সাপেক্ষে সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায় প্যারোল অনুমোদন দিয়ে থাকে। প্যারোলে মুক্তি পেতে হলে আসামিকে একটি আবেদন দিতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে। যাতে মুক্তির জন্য কারণ উল্লেখ থাকে।

তিনি বলেন, আবেদনে উল্লেখ থাকা বিষয়ে বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় প্যারোল অনুমোদন করতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষরের পর আসামির মুক্তি মিলবে। আসামির মুক্তির পরও পুলিশি প্রহড়া বা নজর থাকে এবং শর্ত ভঙ্গ করলে সরকার প্যারোল বাতিল করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্যারোল সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা। এটা সম্পূর্ণ সরকারের এখতিয়ার। যে কোন সময় যে কোন আসামি প্যারোল চাইতে পারেন এবং সরকারও তাকে মুক্তি দিতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত