প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে নতুন আয়কর রিটার্নে বিপাকে করদাতারা

রাশিদ রিয়াজ : শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সংস্থাগুলিতে করদাতাদের বিনিয়োগ সম্পর্কে ভারতের আয়কর দপ্তর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করায় বিপাকে পড়ে সেই বিনিয়োগ বিক্রি শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনই এক সংস্থায় কয়েক বছর আগে বিনিয়োগ করে তার পরিচালন পর্ষদে ঠাঁই পেয়েছিলেন কলকাতার এক ব্যবসায়ী। এখন তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করতে চাইছেন।

নতুন রিটার্ন ফর্মে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে তার যাবতীয় বিনিয়োগ তথ্য দিতে হবে। শুধু তাই নয়, শেয়ার বাজার তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনও সংস্থায় ডিরেক্টর পদে আসীন থাকলে তার তথ্যও দিতে হবে। ভবিষ্যতের ডেটাবেস তৈরির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কর দপ্তর। এর ফলে যে সমস্ত ব্যক্তির এ ধরনের লগ্নি রয়েছে তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কর সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে এই ভয়ে অনেকেই সংস্থাগুলিতে তাদের লগ্নি বিক্রি করা শুরু করেছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সংস্থার ডিরেক্টর পদ ছাড়ার দৌড়ও শুরু হয়েছে, কর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

কর আধিকারিকরা সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে কোনও অসঙ্গতি পেলে তদন্ত শুরু করতে পারে এই ভয়েই শেয়ার বিক্রি এবং পদত্যাগ করা হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা জানান।

কর উপদেষ্টা সংস্থা কেপিবি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস-এর পার্টনার পারাস সাভলার কথায়, ‘ যে ভাবে ভারতের ও বিদেশের বেসরকারি সংস্থাগুলিতে থাকা অংশিদারীত্বের বিবরণ রিটার্ন ফর্মে চাওয়া হয়েছে, তাতে সেই তথ্য ভবিষ্যতে রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজের বা অন্য কোনও দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করে দেখা হতে পারে।’ করদাতাদের প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড় করে একত্র করা এবং তা আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তা না হলে জরিমানার মুখে পড়তে তো হবেই, তার সঙ্গে কালো টাকা আইনের মতো অন্য আইনের গেড়োয় পড়তে হতে পারে, এমন সাবধান করে দিয়েছেন পারাস।

ভারতের আয়কর দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের জন্যও এ ধরনের তথ্য দিতে হবে। কিন্তু, অধিকাংশ বিনিয়োগকারীই তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া এবং সংস্থার উঁচু পদ থেকে ইস্তফা দেওয়াই শ্রেয় মনে করছেন। তাদের ধারণা এর ফলে কর দপ্তর আর জমা দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখবে না। কিন্তু, কর আধিকারিকরা চাইলে সেই তথ্য জোগাড় করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে এক আইনজীবী বলেন, ‘পানামা এবং প্যারাডাইস পেপার্স থেকে পাওয়া তথ্যে এমন কিছু ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছিল যাদের নাম শুধুমাত্র সংস্থার ডিরেক্টরের তালিকায় ছিল। তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে কী ধরনের সুবিধা পেয়েছেন তা জানতে চাওয়া হয়। এ বার সে ধরনের তথ্য নিজের থেকেই আয়কর দপ্তরের কাছে যদি জমা দেওয়া হয় তা হলে কি ঘটতে পারে একবার ভাবুন।’

আয়কর দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘এ সমস্ত তথ্য ভবিষ্যতের জন্য ডেটাবেস তৈরির কাজে চাওয়া হয়েছে। কার সম্পত্তি-আয় কত বা তারা করফাঁকি দিচ্ছেন কিনা তা জানার কোনও স্পষ্ট উপায় নেই। আর সে কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত