প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রেল সেতুতে স্প্যান বসানো যাচ্ছে না নাট-বোল্টের অভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট : মংলা বন্দরকে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে ২০১৮ সালের আগস্টে খুলনা-মংলা রেল সেতুর প্রথম স্প্যান স্থাপন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমেই দৃশ্যমান হয়েছিল প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প। কিন্তু গার্ডার জোড়া দেয়ার নাট-বোল্টের অভাবে এর পরের আট মাসে মাত্র পাঁচটি স্প্যান বসানো হয়েছে। যদিও প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে ৫০টি স্প্যান রয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে খুলনা-মংলা রেল সেতুর অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ছে। আলোকিত বাংলাদেশ।

৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন খুলনা-মংলা রেল সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। এ কমিটিতে ছিলেন খুলনা-মংলা রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রমজান আলীও। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি প্রকল্পের। রমজান আলী বলেন, খুলনা-মংলা রেললাইন প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। এখানে দুটি অংশে কাজ চলছে। রূপসা নদীর ওপর ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটার রেল সেতু রয়েছে; যার অগ্রগতি ৩৯ শতাংশ; কিন্তু বাকি রেললাইন নির্মাণ অংশে ৩১টি ছোট-বড় ব্রিজ, ১১১টি কালভার্ট রয়েছে, তার অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। ফলে ব্রিজ নির্মাণ মূল কাজের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। রেল সেতু নির্মাণে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হওয়ার জন্য সময়মতো প্রকল্প সাইটে ব্রিজের গার্ডার স্থাপনের নাট-বোল্টে ভারত থেকে না আসাকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকল্প সাইটে আট মাস আগে ২২টি গার্ডার এসে পৌঁছে; কিন্তু প্রয়োজনীয় নাট-বোল্টু আসতে সময় লাগে তিন মাস। ফলে গার্ডার স্থাপন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ের ভেতর ভারতীয় ‘ঠিকাদার লারসেন অ্যান্ড টুব্র’ নদীর পাড়ের ভায়াডাক্ট অংশে পাইলিং কাজ এগিয়ে নিয়েছে, এটি আশাব্যঞ্জক। রূপসা নদীর দুই তীরের ৮৫৫টি পাইলিংয়ের মধ্যে ৮৫০টি পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে এরই মধ্যে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, কাস্টমস থেকে পণ্য খালাস জটিলতায় ব্যাহত হচ্ছে খুলনা-মংলা রেললাইন প্রকল্পের রূপসা রেল সেতু নির্মাণ কাজ। প্রকল্পের জন্য ভারত থেকে আমদানি করা মালামাল ছাড় করাতে দুই-তিন মাস সময় লাগে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

রূপসা রেল সেতু প্রকল্পের প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ভারতে তৈরি হওয়া সব স্প্যান প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছবে। তিনি জানান, খুলনা-মংলা রেল সেতু প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন রূপসা নদীর ভেরে পাইলিং স্থাপন করা। এজন্য ভারি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় এ যন্ত্রপাতি নেই। আগামী মাসে ভারতের চেন্নাই থেকে এ যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছার কথা রয়েছে, তখন শুরু হবে সেতু নির্মাণের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এ প্রকল্পের প্রতিবেদন প্রতিনিয়ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যাতে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত