প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শ্রমিক সংকটে ব্যহত হচ্ছে হাওরের বোরো ধান কাটা

ডেস্ক রিপোর্ট : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুরসহ হাওরবেষ্টিত সবকটি উপজেলার বোরো ধান কাটায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে সময়মতো ধান কাটা নিয়ে রয়েছে সংশয়। গত কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়। আর ধান কাটার শুরুতেই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে হাওরে। এমনকি আগাম টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। টানা ২ বছর হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দরিদ্র কৃষি শ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। ভোরের কাগজ।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় কুমিল্লা, নোয়াখালী, পাবনা, বগুড়া, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা ধান কাটতে হাওর এলাকায় আসত। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এসব শ্রমিকরা আসতেন ধান কাটতে। তবে গত কয়েক বছর ধরে হাওরে ফসলহানীর কারণে তারা এখন আর ধান কাটতে আসেন না।

উপজেলার টাংগুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক শিপন মিয়া বলেন, এ বছর ৫ হাল (৬০ বিঘা) জমি চাষাবাদ করেছি। ৩/৪ দিন পর ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শ্রমিক পাচ্ছি না। শেষে বিশ্বম্ভরপুরের মিয়ারচর থেকে ১৬ জন শ্রমিক পেয়েছি। তারা প্রতি কেয়ার (৩০ শতক) ২ হাজার টাকায় ধান কেটে দেবে এবং তাদের দুবেলা খাবারো দিতে হবে। ধান মাড়াইসহ অন্যান্য কাজ আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।

উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক শিপলু বর্মণ বলেন, তার ৬ কেয়ার জমি ১২ হাজার টাকা দিয়ে কাটিয়েছেন। এ রকম অনেকেই বেশি টাকা দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। অনেক কৃষক শ্রমিক না পেয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছেন। কারণ সময়মতো ধান কাটতে না পাড়লে শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী, প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগের ভয় রয়েছে।

জেলা প্রসাশন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে হাওর এলাকার পাশ্বর্বর্তী বালি-পাথর কুয়ারি আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদ জানান, হাওরের ধান কাটার শ্রমিক সংকট যেন না হয়, সেজন্য আগামী ৫ মে পর্যন্ত পাথর কুয়ারি বন্ধ রাখা হয়েছে। কৃষকেরা যদি ধান গোলায় না তুলতে পারেন, তাহলে আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। এ জন্য সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। আমরা কৃষকের কষ্টে ফলানো সোনালি ফসল নষ্ট হতে দেব না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত