প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লিজের সব ট্রেনেই লাভ, সরকারিতে লোকসান

আহমেদ শাহেদ : রেলে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। বহরে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বগি। তার পরও ফি বছর লোকসান বাড়ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, লিজে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া ট্রেনগুলো লাভ করছে। ক্ষেত্রবিশেষে মুনাফার অঙ্ক সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ের চেয়ে ১৮০ শতাংশ বেশি।

টিকিট কালোবাজারি, বিনা টিকিটের যাত্রী পরিবহনসহ অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া সরকারি ট্রেনগুলো। লিজের ট্রেনে এমন সুযোগ নেই বললেই চলে। রেলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬শ’ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে লোকসান ২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ প্রতি বছর যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী পরিবহন করছে রেল।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লাইনে লিজের ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লোকাল’ ট্রেনটি বছরে রেলকে দিচ্ছে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৮০ টাকা। অথচ লিজ প্রদানের আগে বছরে আয় হতো ২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকা। অর্থাৎ এ পথে লিজে আয় বেড়েছে। রেলে বর্তমানে ২১টি ট্রেন বেসরকারি খাতে চলাচল করছে। ২১টি ট্রেন প্রতিদিন ৭৬টি ট্রিপ দিচ্ছে। লোকাল এসব ট্রেন বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা রেলকে পরিশোধ করছে। লিজের আগে এসব ট্রেন বছরে আয় করত মাত্র ২৪ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম জানান, লোকাল ট্রেনগুলো বছরের পর বছর সরকারিভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। এক সময় দেখা যায়, এসব ট্রেন পরিচালনায় ব্যাপক লোকসান হচ্ছিল। পরে ট্রেন্ডারের মাধ্যমে লিজ প্রদান করা হয়। লিজের মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত। তিনি বলেন, লিজে রেলওয়ের আয় হচ্ছে, যা লিজের আগে কখনও সম্ভব হয়নি। লিজ অনুযায়ী ট্রেনগুলো চলুক বা না চলুক রেলকে টাকা পরিশোধ করতেই হবে। লিজে ১০০, ১৫০ শতাংশ আয় বেড়েছে।

জানা যায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৯টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১২টি লোকাল ট্রেন লিজে চালু আছে। রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খুলনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর লাইনে ‘মহানন্দা-৫৮৫’ লোকাল ট্রেনটি বর্তমানে বছরে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৬০ টাকা রেলকে প্রদান করছে। এটি লিজ প্রদানের আগে বছরে আয় করত মাত্র ৪৬ লাখ টাকা। ঈশ্বরদী-ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাইনে রাজশাহী কমিউটার বর্তমানে বছরে রেলকে ৬ কোটি ১৫ লাখ ৫ হাজার ৭৮৪ টাকা প্রদান করছে।

লিজ প্রদানের আগে এ ট্রেনটি আয় করত মাত্র ৫১ লাখ টাকা। খুলনা-গোয়ালন্দঘাট-খুলনা লাইনে ‘নক্সীকাঁথা’ মেইল বর্তমানে বছরে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮০ টাকা রেলকে দিচ্ছে। লিজের আগে ট্রেনটি বছরে আয় করত মাত্র ২৭ লাখ টাকা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রেন চালক, স্টেশন মাস্টার ও ট্রেন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার পরিচালিত লোকাল ট্রেনগুলো লাভজনক করা সম্ভব। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হতে হবে, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রেনে টিকিট চেকিং ও টিকিট কাটা নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র : যুগান্তর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত