প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০৩৫-এ এলএনজি আমদানি দাড়াবে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট

শাহীন চৌধুরী: দেশের জ্বালানি খাত ক্রমশ আমদানি নির্ভর কয়লা এবং এলএনজির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এলএনজি আমদানির পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট করা হবে। গত বছর থেকে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল গ্যাস দিচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। চলতি মাসে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার আরও একটি টার্মিনাল আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির জন্য একটি স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এটির প্রথম ইউনিট নির্মাণ শেষ চালু হবে ২০২৩ সালে। এরপর ২০৩০ সালে উৎপাদনে আসবে দ্বিতীয় ইউনিট। এতে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ বাড়বে। এর বাইরে পটুয়াখালীর পায়রাবন্দর এলাকায় দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার আরও একটি স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। আশা করা হচ্ছে ২০৩৫ নাগাদ এটি চালু হবে।

জ্বালানি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, সরকার দেশে সুসম উন্নয়ন করতে চায়। এ জন্য সব এলাকার জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি থাকলে উদ্যোক্তারা শিল্প স্থাপন করবেন। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। গ্যাসের সংস্থানের জন্য এলএনজি আমদানিকেই ভরসা বলে মনে করা হচ্ছে। এর কারন হিসেবে বলা হচ্ছে, আমদানির ক্ষেত্রে দুই ধরনের জ্বালানিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে- একটি কয়লা, অন্যটি গ্যাস। কয়লার পরিবহন জটিল, পরিবেশের জন্যও কয়লা ভালো নয়। সে ক্ষেত্রে গ্যাস তুলনামূলক নিরাপদ এবং পরিবহন অনেকটাই সহজ।

এদিকে বর্ধিত এই এলএনজি সরবরাহের জন্য সারাদেশে গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্ক নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এজন্য নতুন ১০টি গ্যাস সঞ্চালন লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জ্বালানি বিভাগ। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮৬২ কোটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দশের বড় অংশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। জ্বালানির সংস্থান না করতে পারায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরের জেলাগুলোয় শিল্পের সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ওইসব এলাকার মানুষ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারনেই নতুন এই প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।

এলএনজি সরবরাহের জন্য নতুন যে ১০টি গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- সাতক্ষীরা (ভোমরা) থেকে খুলনার আড়ংঘাটা সঞ্চালন প্রকল্প। এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। লাঙ্গলবন্দ থেকে মাওয়া এবং জাজিরা থেকে টেকেরহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২১ কোটি টাকা। খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে টেকেরহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।

ভোলা থেকে বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪ কোটি টাকা। টেকেরহাট থেকে ফরিদপুর হয়ে বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। পায়রা থেকে বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। খুলনা থেকে বাগেরহাট, পিরোজপুর এবং ঝালকাঠি হয়ে বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

বাখরাবাদ থেকে মেঘনাঘাট হয়ে হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু সেতু (রেলওয়ে) সেকশন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪২০ কোটি টাকা এবং হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০০ কোটি।

এ প্রসঙ্গে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল মামুন বলেন, সারাদেশে গ্যাস সঞ্চালনের নেটওয়ার্ক তৈরি করার বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে। আমাদের কাছে নির্দেশনা আসলেই আমরা কাজ শুরু করবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত