প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইপিএল জুয়ায় পিছিয়ে নেই ভিক্ষুক দিনমজুররাও ‍

রুহুল আমিন : বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-২০ আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরু হয়েছে ২৩ মার্চ। বিগ বাজেটের এ লিগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাশাপাশি প্রতি ম্যাচে দলগুলোতে খেলতে পারছেন চারজন করে বিদেশি খেলোয়াড়। আইপিএলে খেলছেন বিশ্বের নামকরা সেরা নামিদামি প্লেয়ার। যার কারণে দেশের ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে যোগ হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। আর সে সুযোগে জমজমাট এ আসরকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠছে বাজিকররা। বাংলাদেশের চা স্টল থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেলেও চলছে হরদম বাজি। ভোরের কাগজ।

বোলিং ও ব্যাটিংয়ের আগ মুহূর্তে কোন বলে কী হতে পারে, এমন ধারণা নিয়ে চলছে শত থেকে লাখ টাকা বাজি। কোন খেলোয়াড় কত উইকেট নিতে পারে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবেন, কে সেঞ্চুরি করবেন- এমন সব নিয়ে চলছে বাজি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহাবুবুর রহমান সোমবার বিকেলে বলেন, আইপিএল ঘিরে সক্রিয় জুয়াড়িদের ব্যাপারে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পাড়া-মহল্লা এমনকি অলিগলিতে যে সব স্থানে টিভিতে খেলা দেখানো হয় সে সব স্থানে গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে। আইপিএল নিয়ে কোনো বাজি বা জুয়ার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে স্পট ফিক্সিং বা বাজির রমরমা ব্যবসা চলছে বলে জানান মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

গত বছর আইপিএল চলাকালে ঢাকার বাইরে সৈয়দপুর, ডোমার, নালিতাবাড়ি, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক জুয়াড়িকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে বাড্ডায় ক্রিকেট বাজিতে খুন হয়েছে এক যুবক। ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল ভারতীয় এক জুয়াড়িকে ঢাকার গ্রেপ্তার করা হয়। আইপিএল খেলা চলাকালে রাস্তার মোড়ের দোকানগুলোতে ভালোভাবে চোখ রাখলেই দেখা যায়, সেখানে চলছে বাজির দর কষাকষি। তবে যারা বাজি ধরে তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছর। রাজধানীর মতিঝিল, ওয়ারী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, মালিবাগ ও কামরাঙ্গীরচরে বাজিকরদের বিচরণ অনেক। রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভার, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জেও রয়েছে বাজিকরদের তৎপরতা। জুয়াড়িদের এই ‘ব্যবসায়’ নগরীর অভিজাত এলাকার ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন বিভিন্ন ভাবে। অভিজাত হোটেলে গিয়ে তাদের বাজি ধরার ধরনও কিছুটা ভিন্ন এবং ‘বিগ বাজেট’। এছাড়াও রিক্সাওয়ালা, শ্রমিকরা খেলা নিয়ে বাজি ধরেন। বিভিন্ন ম্যাচ ঘিরে জুয়াড়িদের এ তৎপড়তা দেখা যায় গ্রামগঞ্জেও।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে চলছে জুয়ার বাজি। দলগত হার-জিত নির্ধারণ ছাড়া পাশাপাশি চলছে ওভার বা ‘বল বাই বল’ বাজি। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাজিকররা মাঠে গিয়ে বাজি ধরেন; কিন্তু আমাদের দেশে এক ধরনের জুয়াড়ি আছেন যারা বাজি ধরেন টিভির স্ক্রিনে খেলা দেখে। একটু ভালোভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায়, যখন কোনো ধরনের খেলা চলে বিশেষ করে টি-২০ কিংবা একদিনের ম্যাচ হলে তো কথাই নেই, জটলা বেঁধে যায় মোড়ের ছোট দোকানগুলোতে। সরেজমিন আইপিএলের একটি খেলা চলাকালে মিরপুরের একাধিক চায়ের দোকানে গেলে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। লক্ষ্য করতে বোঝা যায় বাজির দর কষাকষি এবং দেখা যায় টাকা হাতবদলের দৃশ্য। অনেক রিকশা চালককেও এমন জুয়ায় মাততে দেখা গেছে।

সর্বাধিক পঠিত