প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মজুদ পর্যাপ্ত , কারসাজি না হলে রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না

আহমেদ শাহেদ : রমজান শুরু হতে আর বাকি প্রায় তিন সপ্তাহ। এরই মধ্যে পাইকারদের আনাগোনায় সরগরম খাতুনগঞ্জ। রমজানের আগমুহূর্তে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে ওঠার চিরাচরিত চিত্র এবার নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত আমদানি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর কম থাকায় এবার রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানকে ঘিরে তিন-চার মাস আগে থেকে পণ্য আমদানি ও মজুদ শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত নয় মাসে দেশের মোট চাহিদার প্রায় সমপরিমাণ পণ্য এরই মধ্যে আমদানি হয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে খাতুনগঞ্জে রমজানে প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম সামান্য বাড়লেও কয়েকটির দাম কমেছে। এর মধ্যে ছোলা, চিনি, খেসারি ও পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবে দু-তিন সপ্তাহ ধরে স্থির রয়েছে সাদা মটর, আদা ও রসুনের দাম। পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দামও কিছুটা কমেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে ডালজাতীয় পণ্যের মধ্যে ছোলা ১ লাখ ১২ হাজার ৯১৫ টন, মসুর ২ লাখ ৫১ হাজার ১১৪ টন ও মটর ৩ লাখ ১ হাজার ৪০৫ টন আমদানি হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও মিয়ানমার থেকে প্রচুর ছোলা আসছে।

বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে, গত ১৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর ও টেকনাফ বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ ছোলা এসেছে তাতে মোট আমদানি দেড় লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। যেখানে দেশে সারা বছরে ছোলার চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার  টন। এছাড়া গত বছর আমদানি হওয়া ছোলার একটি অংশ এখনো বিভিন্ন গুদামে মজুদ রয়েছে। ফলে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে ছোলার দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও শিগগিরই স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রমজানে আরেক গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্য তেল। ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ টন। এর মধ্যে ১৪ লাখ টন আমদানি হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, গত নয় মাসে প্রায় ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৬০৬ টন তেল আমদানি হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানি ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৫ টন। অর্থাৎ এ বছর চাহিদার চেয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টন বেশি আমদানি হয়েছে। ফলে ভোজ্যতেলের দাম আরো কমবে বলে আশা করা যায়।

অন্যদিকে গত নয় মাসে চিনি আমদানির মোট চাহিদা অতিক্রম করে গেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দেশের মোট চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ টন। এর মধ্যে দুই লাখ টন সরবরাহ করে সরকারি মিলগুলো।

বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় থাকায় গত বছরের তুলনায় পণ্য আমদানি বেড়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভোগ্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আমান উল্লাহ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আমান উল্লাহ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে খাতুনগঞ্জের পাইকারিতে অস্ট্রেলীয় ছোলার দাম মণে ৫০-৬০ টাকা বাড়লেও বার্মিজ ছোলার দাম সমপরিমাণ কমেছে। দুই-তিন সপ্তাহ ধরে স্থির রয়েছে সাদা মটরের দাম। গত বছর রমজানকে কেন্দ্র করে চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির হয়েছিল। তবে এবার চিনির দাম মণে প্রায় ২০ টাকা বাড়লেও নিম্নমুখী রয়েছে ভোজ্যতেলের দাম। গত ১৫ দিনে ভোজ্যতেলের দাম মণে প্রায় ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

তবে গত দু-একদিনে চিনির বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী বলে জানা গেছে।

দু-তিন সপ্তাহ ধরে স্থির রয়েছে মসলাপণ্য আদা ও রসুনের বাজার। প্রতি কেজি আমদানিকৃত (চীনা) আদা ৬৮-৭০ টাকা এবং রসুন ৮০-৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি ১-২ টাকা বেড়ে বর্তমানে ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ ১৮-১৯ টাকা, হাঁসখালী, সুখসাগর ও অন্যান্য জাতের পেঁয়াজ ১০-১২ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, বর্তমানে বাজারের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের কাছে রমজানের প্রচুর পণ্য মজুদ রয়েছে। তাছাড়া চলতি মাস পর্যন্ত আরো প্রচুর পণ্য বাজারে ঢুকবে। ফলে এবার কোনো পণ্যের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা নেই।

রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, রমজানকে ঘিরে প্রতি বছর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করেন। তবে পবিত্র মাসে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবার আগেভাগেই জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম বাজার তদারক করবে। অতিরিক্ত মুনাফা ও সিন্ডিকেটের প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : বণিকবার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত